নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে সবজিখেতসহ বিভিন্ন ফসলি জমি তলিয়ে যায়। কোথাও পানি দ্রুত নেমে গেলেও অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হয়েছে আগাম সবজির। এতে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ার পাশাপাশি বাজারে সবজির সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বেড়ে গেছে কাঁচামরিচ, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা, বেগুন ও পটোলের দাম।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের কিছু নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। আগামী পাঁচদিন বাড়তে পারে ব্রহ্মপুত্রের পানি। তবে পদ্মার পানি কমার পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন দেশের প্রায় সব বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নদী-তীরবর্তী নিচু এলাকার ফসলি জমিতে পানি ঢোকার ঝুঁকি থাকছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এলাকার সবজিখেতে পানি ঢুকেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রতিবেদনে ভাড়ইমারী, নওদাপাড়া, আমসারদাইড়, জগন্নাথপুর, আওতাপাড়া, সলিমপুর, চরগড়গড়ী, মুলাডুলি, বাঘহাছলা ও চরমিরকামারীর মাঠে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢেঁড়শ, পটোল, চিচিঙ্গা ও ঝিঙার পাশাপাশি মুলা, ধনেপাতা ও আগাম ফুলকপির।
চরমিরকামারীর কৃষক নকিব উদ্দিন নসরুল্লাহ জানান, তার তিন বিঘা ঢেঁড়শের জমিতে হাঁটুসমান পানি জমেছিল। এখন তা নেমে গেলেও অতিরিক্ত পানিতে গাছে নতুন ফুল আসছে না এবং কিছু সবজির গোড়ায় পচন ধরেছে। তার এলাকার এক শিমচাষীর প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতেও প্রায় আড়াই ফুট পানি জমেছিল বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কিছু জমির ফসল তলিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পানির স্থায়িত্বের ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে।’
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও পদ্মার পানি বেড়ে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ফিলিপনগর, মরিচা, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ একর ফসলি জমিতে পানি ঢুকে রোপা আমন, কলা ও মরিচসহ বিভিন্ন ফসল আক্রান্ত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার পানি বাড়ায় প্রায় ২০০ হেক্টর ধান, মাষকলাই, হলুদ, মরিচ, কলা ও শাকসবজির জমি আক্রান্ত হয়।
উত্তরের পাঁচ জেলায় তিস্তার ভাঙনেও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বন্যায় বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে মাঠের ক্ষতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে। রংপুরে ১৫ সেপ্টেম্বরের বাজারদর অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম ৭০-৮০ থেকে বেড়ে ১৩০-১৫০ টাকা কেজি হয়েছে। ঝিঙা, চিচিঙ্গা, শসা, বেগুন, পটোল ও শিমের দামও বেড়েছে। রাজধানীতেও বৃষ্টির মধ্যে কয়েকটি সবজির দাম বেড়েছে; কাঁচামরিচ ১৬০-২০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০-১৪০ টাকা এবং বরবটি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।
রামপুরার সবজি বিক্রেতা মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত আক্রান্ত হওয়ায় পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে।’
মাঠে পানি ঢুকলেই পুরো ফসল নষ্ট হয়েছে, এমনটি মনে করছে না কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সংস্থাটির সরজমিন উইংয়ের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে ফসলি জমিতে প্রবেশ করেছে। এসব এলাকা মনিটর করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় পানি ঢুকলেও তা এখনো ক্ষতিগ্রস্ত পর্যায়ে যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে আরো কিছুটা সময় লাগবে।’