ইংরেজি নববর্ষ উৎযাপনে ডিএমপির নির্দেশনা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের জমায়েত অথবা সমাবেশ বা উৎসব করা যাবে না।

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, থার্টি ফার্স্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের জমায়েত অথবা সমাবেশ বা উৎসব করা যাবে না। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিভিন্ন দেশে সব ধরনের অনুষ্ঠান সীমিত আকারে পালন করা হচ্ছে। থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে নির্ধারিত অনুষ্ঠান উদযাপন করতে নগরবাসীদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কোথাও কোনো ধরনের আতশবাজি বা পটকা ফোটানো যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পরে বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত যানবাহন পরিচয় দেয়ার পরই প্রবেশ করতে পারবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাসরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীদের রাত ৮টার মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে আসতে হবে এবং পরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যেকে পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় রাত ৮টার টার পর বহিরাগতরা প্রবেশ করতে পারবে না। তবে এসব এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা নির্ধারিত সময়ের পর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং দিয়ে পরিচয় দেয়া সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারবে। উল্লেখিত সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় যেসব লোকজন বসবাস করেন না, তাদেরকে এসব এলাকায় যাতায়তের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

হাতিরঝিল এলাকায় সন্ধ্যা ৬টার টার পর থেকে কোনো্ সমাবেশ অথবা অনুষ্ঠান করা যাবে না এবং কোনো যানবাহন থামিয়ে অথবা পার্কিং করে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না।

সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীর কোন বার খোলা রাখা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত আকারে আবাসিক হোটেলগুলোতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান করা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রেঁস্তোরা, জনসমাবেশ ও উৎসবস্থলে সব ধরনের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র বহন না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

ডিএমপি এসব নির্দেশনা পালনে ব্যর্থ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

রাজধানীর কিছু কিছু এলাকায় বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টা থেকে পর দিন ১ জানুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় যানবাহনযোগে প্রবেশের জন্য কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ (কাকলী ক্রসিং) এবং মহাখালী আমতলী ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

রাত ৮টা থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা-ফিনিক্স রোড ক্রসিং, বনানী ১১ নম্বর রোড ক্রসিং, চেয়ারম্যান বাড়ি ক্রসিং, ঢাকা গেট, শুটিং ক্লাব, বাড্ডা লিংক রোড, ডিওএইচএস বারিধারা-ইউনাইটেড হাসপাতাল ক্রসিং ও নতুন বাজার ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে না, তবে এসব এলাকা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এসব ক্রসিং ব্যবহার করা যাবে।

সন্ধ্যা ৬ টা থেকে পরদিন ১ জানুয়ারি ভোর ৫ টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী ছাড়া যে কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন কেবলমাত্র পুরনো হাইকোর্ট-দোয়েল চত্বর-শহীদ মিনার-জগন্নাথ হলের দক্ষিণ গেট-পলাশী মোড় দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। এসব এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল ক্রসিং বন্ধ থাকবে।

রাত ৮টা থেকে শাহবাগ, নীলক্ষেত ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, বকশী বাজার ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং ও চাঁনখারপুল অথবা শহিদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে কোন প্রকার যানবাহন প্রবেশ করবে না বলেও জানানো হয়।

কেউ বেপরোয়া, মদ্যপ ও বিপজ্জনক অবস্থায় গাড়ি চালালে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে: ডিসি ট্রাফিক (গুলশান)-০১৩২০-০৪৪৩৬০, এডিসি ট্রাফিক (গুলশান)-০১৩২০-০৪৪৩৬১, এসি ট্রাফিক (গুলশান)-০১৩২০-০৪৪৩৭২, এসি ট্রাফিক (মহাখালী)-০১৩২০-০৪৪৩৭৫, এসি ট্রাফিক (বাড্ডা)-০১৩২০-০৪৪৩৭৮, ডিসি ট্রাফিক (রমনা)-০১৩২০-০৪২২৬০, এডিসি ট্রাফিক (রমনা)-০১৩২০-০৪২২৬১, ডিসি (গুলশান)-০১৩২০-০৪১৪২০ ও ডিসি (রমনা)-০১৩২০-০৩৯৪৪০ নম্বরে ফোন করা যাবে।

আরও