প্রাক-বাজেট আলোচনা

সিগারেটের দাম বাড়ালে খুশি হয়, কর বাড়ালে খুশি হয় না: এনবিআর চেয়ারম্যান

তিনি বলেন, ‘সিগারেটের ব্র্যান্ডরোল থেকে আমরা কর পাই। কাস্টমস থেকে আমরা ব্র্যান্ডরোল ছাপাই। সেটা ডিসি অফিসে দিই। অথচ এরা নিজেরা নিজেরা ছাপায় এমনকি বিদেশ থেকেও জাল ব্র্যান্ডরোল ছাপিয়ে নিয়ে আসে।’

সিগারেট কোম্পানিরা দাম বাড়ালে খুশি হয়, কর বাড়ালে খুশি হয় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, ‘সিগারেটের ব্র্যান্ডরোল থেকে আমরা কর পাই। কাস্টমস থেকে আমরা ব্র্যান্ডরোল ছাপাই। সেটা ডিসি অফিসে দিই। অথচ এরা নিজেরা নিজেরা ছাপায় এমনকি বিদেশ থেকেও জাল ব্র্যান্ডরোল ছাপিয়ে নিয়ে আসে। আমরা এক্ষেত্রে ডিজিটাল করছি, যেন জাল-জালিয়াতি না করতে পারে। কোম্পানিগুলো সিগারেটের দাম বাড়ালে খুশি হয়, কারণ এতে কোম্পানির প্রফিট মার্জিন বাড়ে। কিন্তু কর বাড়ালে খুশি হয় না। এটা বুঝতে একটু সময় লেগেছে। আমরা এ বিষয়টিও বিচেনায় নেব।’

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় চোরাচালানের বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের ফোকাসটা একটু অন্যদিকে গেছে। সেজন্য সেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে কাস্টমস গোয়েন্দা তাদের রুটিন ও নিয়মিত কাজ করছে। আমরা ডিউটি কমানোর পর চিনির চোরাচালান কমেছে কিনা, সেটার তথ্য আমরা নিচ্ছি। আমরা চোরাচালান নিরোধ কেন্দ্রীয় টাস্কফোর্সের বুধবারের সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেব।’

কর বাড়ানোর কারণে সিগারেটের চোরাচালান বাড়ে অভিযোগ তুলে কোম্পানিগুলোই এ কাজ করে বলে অভিযোগ করেছে অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। তাদের দাবি, কোম্পানিগুলো তখন মিডিয়াকে দিয়ে নিউজ করিয়ে সুবিধা নেয়।

আত্মা’র পক্ষ থেকে আগামী বাজেটে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ৯০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে স্বল্প আয়ের ধূমপায়ী ধূমপান ছাড়তে বিশেষভাবে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম ধূমপান শুরু করতেও নিরুৎসাহিত হবে বলে সভায় জানানো হয়। এছাড়া প্রতি ১০ শলাকা উচ্চ স্তরের সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৪০ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা এবং প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১৯০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয। এ তিনটি স্তরে সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়।

আরও