কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়ক সংস্কার

প্রকল্পের মেয়াদ দেড় মাস অবশিষ্ট থাকলেও ৯০ শতাংশ কাজই বাকি

কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কটি নির্মাণ করা হয় দুই দশক আগে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কটি নির্মাণ করা হয় দুই দশক আগে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক প্রশস্ত ও সংস্কারকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা। সড়কটির কাজ করছেন ঠিকাদার খায়রুল কবীর রানা। প্রকল্পের মেয়াদ দেড় মাস বাকি থাকলেও ৯০ শতাংশ কাজ এখনো শেষ হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুই পাশে গর্ত খুঁড়ে কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা। প্রায় দুই বছর ধরে সড়কটি এভাবে পড়ে থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। সরজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশে করা হয়েছে গর্ত। আবার কোথাও খুঁড়ে রাখা গর্ত ভরে উঠেছে সবুজ ঘাসে। এরই মাঝে অবশিষ্ট ভাঙা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী ও যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে সম্প্রতি মানববন্ধনও করেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দিনের বেলা সড়কে কোনো রকমে যাতায়াত করা গেলেও রাতে কুয়াশায় প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওহাব মণ্ডল জানান, সড়কটি নির্মাণের ২১ বছর পর সংস্কারকাজ শুরু করলেও ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছেন। সড়কের দুই পাশে গর্ত করে রাখা হয়েছে। দুই বছর ধরে এভাবে পড়ে আছে সড়কটি।

একই ইউনিয়নের বালাকান্দি গ্রামের ইশা মিয়া জানান, রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কটি দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

রাজারহাট সদর ইউনিয়নের সোহেল জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে টেন্ডারের মাধ্যমে সড়কটি সংস্কারকাজ শুরু হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সম্ভবত লোকসানের আশঙ্কায় ঠিকাদার কাজ করতে চাচ্ছেন না।’

ভুক্তভোগীরা জানায়, জেলাসহ বিভাগীয় শহর রংপুরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলার সংযোগ সড়কটিতে চলছে না ভারী যানবাহন। অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চললেও বেহাল সড়কটিতে জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক প্রশস্ত ও সংস্কারকাজ শুরু করেন ঠিকাদার খায়রুল কবীর রানা। আগামী জানুয়ারিতে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য বারবার তাগাদার পরও কাজ না করায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

এ বিষয়ে রাজারহাট এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ মণ্ডল জানান, ঠিকাদারকে কাজ শেষ করতে বারবার নোটিস দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও