সাতক্ষীরায় ইটভাটা রক্ষায় বাঁক পরিবর্তন করে নদী খনন

নাব্য হারিয়ে ভরাট হওয়ার আশঙ্কা এলাকাবাসীর

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পুনরায় খনন করা হয়েছে মরিচ্চাপ নদী। ১ দশমিক ৮৬৫ কিলোমিটার খননকাজে ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেয় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে পুনরায় খনন করা হয়েছে মরিচ্চাপ নদী। দশমিক ৮৬৫ কিলোমিটার খননকাজে কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নেয় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২। নদীর এক পাশে রয়েছে আশাশুনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের ইটভাটা। অভিযোগ রয়েছে, স্থাপনাটি অক্ষুণ্ণ রাখতে নদীর একাংশের বাঁক পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে নদীটি দ্রুত নাব্য হারিয়ে আবারো ভরাট হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বাসিন্দারা নদীটি খননের সময় বারবার আপত্তি জানান। নদীবক্ষে অবৈধ ইটভাটা অপসারণের তাগিদ দেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন আপত্তির বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। ইটভাটা অক্ষুন্ন রেখেই নদীর একাংশে বাঁক পরিবর্তন করে খনন করা হয়েছে। প্রায় সাড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি কোনো কাজে আসবে না বলেও দাবি তাদের।

ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত শামীম আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মরিচ্চাপ নদী খননে হয়রানি হতে হয়েছে। নদীর এক পাশে উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিমের ইটভাটা, অন্য পাশে রয়েছে প্রশাসনের পার্ক। ভাটা পার্ক অক্ষুন্ন রেখেই নদী খনন শেষ করা হয়েছে। এতে খননকাজ যেমন বিঘ্নিত হয়েছে তেমনি সময়ও লেগেছে অনেক বেশি। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় থাকলেও খননকাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

জানা গেছে, সারা দেশে অভ্যন্তরীণ ছোট নদী, খাল জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মরিচ্চাপ নদী খনন সম্প্রতি শেষ হয়েছে। কাজটি পায় ফেনীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালেহ আহমেদ। ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট কার্যাদেশ পেয়ে কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। যদিও তার আগেই কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার।

ইটভাটা রক্ষায় নদীর বাঁক পরিবর্তনের কারণে নাব্য সংকট দেখা দিবে। নদী আবারো ভরাট হয়ে যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আশাশুনি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিন হোসেন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের ইটভাটা মরিচ্চাপ নদীর মধ্যেই পড়েছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ইটভাটা রক্ষায় নদীর একাংশে ঘুরিয়ে খননকাজ শেষ করেছে। মরিচ্চাপ নদী খননকাজ শুরুর সময় তারা ইটভাটা অপসারণে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কেউ আপত্তির বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। বরং ইটভাটা রক্ষা করেই নদী খননকাজ শেষ করেছে। ইটভাটার কারণে নদী দ্রুত ভরাট হয়ে যাবে।

মরিচ্চাপ নদীপাড়ের বাসিন্দা সুমন হোসেন জানান, যে উদ্দেশ্যে সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে মরিচ্চাপ নদীটি খনন করেছে তা কোনো কাজে আসবে না। ইটভাটা রক্ষা করতে গিয়ে নদীর একাংশ বেঁকে গেছে। মরিচ্চাপ নদীর নাব্য ফিরে পেতে ইটভাটা অপসারণের দাবি জানান তিনি।

তবে উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সামনে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, তাই কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে আমার বিরুদ্ধে। ভাটা যেখানে ছিল সেখানেই আছে। মরিচ্চাপ নদী খনন তো শেষ হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছে। এখন আমার বিপক্ষের লোকজন এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি আলম নূর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নদীতে ইটভাটা রেখে খনন হয়েছেএমন বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে জানায়নি। তাছাড়া কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তার পরও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

আরও