এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো হাবিবুর রহমান কথা বলেছেন বণিক বার্তার জেলা প্রতিনিধি বাদশাহ্ সৈকতের সঙ্গে
লাম্পি স্কিন রোগটি কী? কুড়িগ্রামে কখন প্রথম রোগটি সম্পর্কে জানা যায়?
এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। ২০২১ সালে কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্প পরিমাণে দেখা দেয়।
এ রোগ কীভাবে ছড়ায়?
এ রোগ ভাইরাস দ্বারা ছড়ায়। গবাদিপশুর অপরিষ্কার ঘর, অপুষ্টি, মশা ও মাছির কামড়ে অথবা সরাসরি সংস্পর্শে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া এলএসডিতে আক্রান্ত কোনো পশুকে ইনজেকশন দেয়ার পর সেই সুই অন্য সুস্থ পশুর শরীরে ব্যবহার করলে সেখান থেকেও এ রোগ ছড়াতে পারে।
এ রোগের লক্ষণ কী?
এলএসডি হলে প্রথমে পশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, পশুর খাবারের রুচি কমে যায়, জ্বর বেশি হলে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে চামড়ায় প্রথমে গুটি গুটি দেখা দেয়, ধীরে ধীরে ওই গুটির স্থানে ক্ষত হয় এবং কখনো কখনো দুই পায়ের মাঝে বুকের নিচে পানি জমতে পারে। এছাড়া গিরা ফুলে যাওয়া এবং অনেক সময় গলার নিচে ফুলে যেতে পারে।
এ রোগের চিকিৎসা কী?
এলএসডির লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো। পাশাপাশি টিকা (এলএসডি ভ্যাকসিন) প্রয়োগ করা সবচেয়ে কার্যকর। আক্রান্ত গরুকে অবিলম্বে আলাদা করে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা। অবশ্যই মশারি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, যাতে অন্য গরু সংক্রমণ হওয়া থেকে রক্ষা পায়। আক্রান্ত পশুকে ঘন ঘন স্যালাইন পানি, বেশি বেশি কাঁচা ঘাস খাওয়াতে হবে। শরীরে জ্বর বেড়ে গেলে প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ে এসব করতে হবে।
আক্রান্ত পশুর মৃত্যুঝুঁকি আছে?
সময়মতো চিকিৎসা না দিলে আক্রান্ত গরুর প্রায় ৮০ ভাগের মৃত্যু হতে পারে। অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও বাছুরের মৃত্যুঝুঁকি একটু বেশি থাকে।
এ রোগ ভালো হতে কতদিন সময় লাগে?
সঠিক সময়ে চিকিৎসা দিলে এক থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে এলএসডি ভালো হয়।
কৃষক বা খামারিদের সতর্ক করার জন্য কোন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়?
এলএসডি নিয়ন্ত্রণে খামারিদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাসস্থান, উন্নত মানের খাবার পরিবেশ—যেমন কাঁচা ঘাস, দানাদার খাদ্য, মশা-মাছি যাতে কামড়াতে না পারে সেজন্য মশারি টানানো বা অন্য কোনো উপায়ে মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গবাদিপশুকে সময়মতো টিকা দেয়াসহ অন্যান্য পরামর্শের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।