সুন্দরবনে পর্যটনবাহী জালিবোটসহ সকল নৌযান চলাচল বন্ধ

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানির প্রতিবাদে সব নৌযান মালিকরা নিজ নিজ থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছেন। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪০০ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।

সুন্দরবনে পর্যটনবাহী প্রায় চার'শ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অভিযানে জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণের পর এ ধর্মঘট ডেকেছে মাঝিমাল্লা সংঘ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের (খুলনা) হয়রানির প্রতিবাদে সব নৌযান মালিক নিজ নিজ জায়গা থেকে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছেন। ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪০০ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার।

ভোর থেকে সুন্দরবনের উদ্দেশে দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

যশোর থেকে আসা সাজেদ রহমান বলেন, পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নামার পর শুনছি সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ, তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না।

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। রোববার পর্যটনবাহী নৌযানগুলোয় অভিযান চালিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ কারণে নৌযান মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে।

নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, বোটের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও দুর্ঘটনা রোধে জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরও