সিলেটে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

হামে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করাও

সিলেটে গতকাল হাম উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগে এর আগে একদিনে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে সিলেটে এখন পর্যন্ত ৪৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেল। বর্তমানে ২৮৩ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মারা যাওয়া দুই শিশু সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও একজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনির ওমর রাশেদ জানান, হামের প্রকোপ বাড়ায় ওসমানী হাসপাতালে ২০টি ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪টি আইসিইউ বেড সংযোজন করা হয়েছে।

হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালটিকে হাম রোগীর জন্য ডেডিকেটেড করে দেয়া হয়। গতকাল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান জানান, শুরুর দিকে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর সংখ্যা দু-একজন হলেও বর্তমানে এ সংখ্যা ২০-২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের বয়স ১৬-৩৫ বছরের মধ্যে। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক কারো মৃত্যু হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালটির কোনো বেড খালি নেই। আইসিইউর ১৪ বেডের মধ্যে ১৪টিতে শিশু ভর্তি আছে। চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে ২০ জন প্রাপ্তবয়ষ্ক রোগী রয়েছেন।

এছাড়া সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটিকে (স্পেশাল ওয়ার্ড নিউবর্ন ইউনিট-নবজাতক বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট) হাম রোগীর জন্য ডেডিকেটেড করা হয়। গত ১১ মে থেকে এ ওয়ার্ডে চিকিৎসা চলছে। ৩৮ বেডের এ ওয়ার্ডে অন্তত তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছে।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে মারা যাওয়া ৪০ জনের মধ্যে চারজন নিশ্চিত হামে ও ৩৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আর গত পাঁচ মাসে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে মারা গেছে চারজন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও নিশ্চিত হাম ধরা পড়েনি। বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৫৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৭৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৮৩ জন। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম জানান, বেশির ভাগ রোগী খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে আসে। যার কারণে মৃত্যুর হার বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আরেকটা আইসোলেশন করতে হবে।

আরও