রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানি বাড়ায় রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত সেতুটি ডুবে গেছে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে হ্রদের পানি বেড়ে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন ডুবতে শুরু করে। সেতুর পাটাতন ডুবে যাওয়ার কারণে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সেতুতে না ওঠার অনুরোধ জানিয়েছে রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুলন্ত সেতু ডুবে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের ব্রিজে না ওঠার এবং পানিতে না নামার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। তবে হ্রদে পানির উচ্চতা ১০৫ ফুট এমএসএল ছাড়ালেই ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন ডুবে যায়। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টায় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। পাটাতন ডুবে যাওয়ার পরও শনিবার বিকালে রাঙ্গামাটিতে আসা কয়েকজন পর্যটককে সেতুতে চলাচল করতে দেখা গেছে।
রাঙ্গামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, আজ দুপুর দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে ঝুলন্ত সেতুর পাটাতন পানিতে তলিয়ে যায়। এরপরই পর্যটকদের প্রবেশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
হ্রদের পানি বাড়ায় বাঘাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানির চাপ কমাতে শনিবার রাতেই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের গেট খোলা হতে পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হ্রদের পানির উচ্চতা দুপুর ২টায় ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট। উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাত ১০টায় ১৬টি গেট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেয়া হতে পারে। এতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি বের হবে। বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহ বাড়লে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।