ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে থেকে ১১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন এমএ খালেক। টাকার অংকে গরমিল ও ভুয়া জমা বা ফেক ডিপোজিটের মাধ্যমে এ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। অপরাধের পুরো প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন এমএ খালেকের স্ত্রী সাবিহা খালেক, ছেলে শাহরিয়ার খালেদ রুশো, মেয়ে শারওয়াত খালেদ ও তার স্বামী তানভিরুল হক। অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি স্বজন-সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ৫৮৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ান এমএ খালেক। আদালতের নির্দেশে ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে এসব অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় গতকাল মানি লন্ডারিং আইনে একটি মামলাও করেছে সংস্থাটি।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্টরা জানান, এমএ খালেক ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের টাকা অপরাপর আসামিদের সহায়তায় লেয়ারিং করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন। এমএ খালেক তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর ৮৯ কোটি ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯৭ টাকার চেক বা নগদ টাকা জমা করেন।
অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট নথি ও ব্যাংক বিবরণীসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি এমএ খালেক, তরফদার জাহাঙ্গীর আলম, মো. জাহিদুল হক, সাবিহা খালেক, শাহরিয়ার খালেদ রুশো, শারওয়াত খালেদ, তানভিরুল হক, মো. ফজলুল হক, আবুল কাশেম মোল্লা, রাশেদ মোহাম্মদ মাজহার, খুশরুবা সুলতানা শিল্পি, শেখ ইউসুফ আলী, মাহবুবা সুলতানা, মিসেস দিলরুবা সুলতানা, মো. নজরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান মোস্তফা ও কাজী শাহরিয়ারদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রতারণা ও জালিয়াতির সম্পৃক্ততার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এর ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল মতিঝিল থানায় মামলা হয়েছে।
অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, মামলার সার্বিক তদন্তে ও সাক্ষ্য-প্রমাণে ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় এবং রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এমএ খালেক, তার স্ত্রী, সন্তান ও সহযোগীসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।