২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০৮ শিশু নিহত হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্টনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
গত এক বছরের সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়— বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালক বা হেলপার হিসেবে নিহত হয়েছে ৫৩৭ শিশু (৫৩.২৭%), পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৪৭১ শিশু (৪৬.৭২%)।
বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৮৭ শিশু (৩৯.৭০%), প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৩২ শিশু (৬.৭৯%)। এছাড়া, থ্রি-হুইলার ও নসিমন-ভটভটির চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১৯৮ শিশু (৪২.০৩%), বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছে ৫৪ শিশু (১১.৪৬%)।
শিশু নিহত হওয়া সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মহাসড়কে ২৮১ শিশু (২৭.৮৭%), আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ শিশু (৩৬.১১%), গ্রামীণ সড়কে ২৯১ শিশু (২৮.৮৬%) এবং শহরের সড়কে ৭২ শিশু (৭.১৪%) নিহত হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ১৭৯টি (১৭.৭৫%), ৬ বছর থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৩৮২টি (৩৭.৮৯%) এবং ১৩ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিহত হয়েছে ৪৪৭টি (৪৪.৩৪%)।
সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেশের সড়ক ও সড়ক পরিবহন শিশুবান্ধব না হওয়া, সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার সম্পর্কে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না দেয়া, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক কর্তৃক যানবাহন চালানো, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট, আহত শিশুদের চিকিৎসায় পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার সময় এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় নিহতের ঘটনা বেশি ঘটেছে। পথচারী হিসেবে শিশুরা গ্রামীণ সড়কে বেশি হতাহত হচ্ছে। কারণ গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা। এসব সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহনসমূহ বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। আবার শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের কোনো নিয়ম-নীতি জানে না। এই অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে আমাদের শিশুরা নিহত হচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে।