রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

আগামী রোববার ও সোমবার এ দুই দিনের সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয়দের প্রিয় মানুষকে বরণ করে নিতে তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং শহর পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথমবার দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো ঠাকুরগাঁও জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ।

আগামী রোববার ও সোমবার এ দুই দিনের সফর ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের পরিচিত রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয়দের প্রিয় মানুষকে বরণ করে নিতে তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং শহর পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

ছবি: বাসস

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল কর্মকর্তা আবুল কালাম মোহাম্মদ লুৎফর রহমানের স্বাক্ষর করা সফরসূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে গিয়ে পৌঁছাবেন এবং সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করবেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি শহরের সেনুয়া পাড়ায় পারিবারিক গোরস্থানে গিয়ে তার বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন এবং মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে তিনি শহরের কালীবাড়িতে নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে নাগরিক কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সংবর্ধনা শেষে বাসভবনে ফিরে গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং রাতে সেখানেই থাকবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনি ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম শেষে সার্কিট হাউসে যাবেন। পরবর্তীতে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে তার ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে জেলাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করছেন।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ড. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির জানান, দীর্ঘদিন পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে নিজ জেলার সন্তান মানুষের কাছে ফিরছেন, যা সবার জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়।

ছবি: বাসস

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন জানান, রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় প্রথম আগমন স্থানীয় মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। সাধারণ মানুষের সাথে তার দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক থাকায় সবাইকে নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফর ঘিরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সব দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কর্মসূচি, চলাচলের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিতেও জোর দেয়া হচ্ছে।

আরও