টাঙ্গাইলে কোটা আন্দোলনের সংঘর্ষে আহত ১৭

সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালনকালে টাঙ্গাইলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে।

সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালনকালে টাঙ্গাইলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকে।
পরে তারা কোটা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করে। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে টাঙ্গাইল বাইপাস সড়কের দিকে রওনা হয়। মিছিল পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইট,পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় কয়েক দফায়। এ ঘটনায় দুজন সাংবাদিক ও পাঁচজন পুলিশসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়।

আহত দুই সাংবাদিক হচ্ছেন বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোরের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মোল্লা তোফাজ্জল হোসেন ও রূপালী বাংলাদেশের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান মনির। এরপর আন্দোলনকারীরা শহরের বেশ কয়েকটি সড়কে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষিপ্ত মিছিল করে। এ অবস্থায় শহর জুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত শহরের প্রধান সড়কে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছিলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম জানান, জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় দুপুরে তালাবদ্ধ ছিল। এ সময় কোটা আন্দোলনকারীরা তালা ভেঙে অফিস ভাঙচুর করে। তারা কার্যালয়ের আসবাবপত্র রাস্তায় এনে অগ্নিসংযোগ করে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, আহতদের মধ্যে ৫ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো শিক্ষার্থী বা আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল বা রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়নি। তবে আজকের সংঘর্ষে বিএনপি-জামায়াতের বেশ কিছু বহিরাগতদের দেখা যায়। তাদেরকে ফেরাতে টিয়ারশেল-রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরও