আগামী দশকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরো বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। গতকাল বুধবার চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ চীনকে তার ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের সম্পর্ক বিস্তৃত। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফর থেকে শুরু করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের সফর ও মতবিনিময় রূপান্তরমূলক বিভিন্ন প্রকল্প ও চুক্তির পথ তৈরি করেছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে সহায়তা করছে।
তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, বৃহৎ পরিসরে ডিজিটালাইজেশন কিংবা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং ছোট ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলমান বিনিময় দুদেশেরই চিত্র বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের মধ্যে বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করতে এবং সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত করতে সহায়তা করে।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, দুদেশের বন্ধুত্ব এগিয়ে নেয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণে তার নিরলস প্রচেষ্টা বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত অঙ্গীকার ও অবদানের প্রতি গভীর মূল্যায়ন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ়তা ও চেতনার ওপর ভিত্তি করে সরকার আগামী দশকে সহযোগিতার আরো বিস্তারের প্রত্যাশা করে। এ সহযোগিতা শুধু বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেই নয়, বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আরো বিস্তৃত হবে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এমন এক বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা প্রত্যাশা করে, যা হবে আরো ফলপ্রসূ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। এ অংশীদারত্ব শুধু বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মানুষকে ক্ষমতায়িত করবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোকে শক্তিশালী করবে। ছোট ব্যবসায়ীরা দুদেশের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর শুভেচ্ছাদূত হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চীনের সরকার ও জনগণের জন্য অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্ব অব্যাহতভাবে বিকশিত হয়ে দুদেশের জনগণের আরো অগ্রগতি বয়ে আনবে এবং এ অঞ্চলের পাশাপাশি বিশ্বেও দুদেশের বন্ধুত্বের স্থায়ী স্থিতিশীলতা ও সুসম্পর্ক নিশ্চিত করবে।