গবাদিপশুতে লাম্পি স্কিন ডিজিজের সংক্রমণ

রংপুরে ভ্যাকসিন ব্যবহারে কমছে সংক্রমণ

রংপুরে ভ্যাকসিন ব্যবহার করায় পূর্ণবয়স্ক গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজে (এলএসডি) আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তবে এখনো বাছুর কমবেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

সরজমিনে জেলা সদর প্রাণিসম্পদ দপ্তরে গিয়ে দেখা গেছে, বেশ কয়েকজন খামারি রোগাক্রান্ত পশু নিয়ে এসেছেন চিকিৎসার জন্য। রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুর। তিনি জানান, ৪৫ দিন বয়সের বাছুরের, বিশেষ করে মুখে এলএসডি দেখা দেয়ায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন। চারদিন ধরে বাছুরটি অসুস্থ। বর্তমানে মুখে বেশকিছু ফোড়ার মতো দেখা যাচ্ছে। বাছুরটি খাবারও কম খাচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের ৩২ নং ওয়ার্ডের ধর্মদাস লক্ষ্মণপুর এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, ‘৯০ দিন বয়সের বাছুরটি এক সপ্তাহ আগে এলএসডিতে আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এ অসুখ ভালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন শরীরে পানি জমাসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়ায় চিকিৎসার জন্য বাছুরটি নিয়ে এসেছি।’

জেলা সদর প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ড্রেসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এলএসডিতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে। বর্তমানে চার-পাঁচদিন পর দুই-একটি করে আক্রান্ত পশু পাওয়া যায়। অথচ তিন মাস আগে প্রতিদিন চার-পাঁচটি পশু পাওয়া যেত।’

রংপুর নগরীর বাহারকাছনা এলাকার খামারি লিংকন মো. আরমানুর রহমান বলেন, ‘ভ্যাকসিন ব্যবহারে এ রোগের সংক্রমণ এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে এলাকায় গরুর খুরা রোগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের খামার মোহনা গ্রামের খামারি সামিউল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে এলএসডিতে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা অনেক বেশি থাকলেও এখন তা কমেছে।’

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত মে মাসে এলএসডি প্রতিরোধে ১৯ হাজার ৯৭৪ ডোজ ভ্যাকসিন (এলএসডি) প্রয়োগ করা হয়েছে। উল্লিখিত মাত্রায় প্রায় এক লাখের মতো গরু ভ্যাকসিনের আওতায় এসেছে। এছাড়া ৯৭৬ ডোজ ভ্যাকসিন জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত আছে।

জেলায় মোট গবাদিপশুর সংখ্যা ২১ লাখ ২৮ হাজার ৫০৬। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১৩ লাখ ৮৪ হাজার ১১৩, মহিষ ২ হাজার ২৭৯, ছাগল ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯৪০, ভেড়া ৯৪ হাজার ৫২০ ও অন্যান্য ২ হাজার ৬৫৪টি। জেলায় খামারের সংখ্যা মোট ৪ হাজার ৫১৫। এর মধ্যে নিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬৯ ও অনিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৬টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘নিয়মিত ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া খামারিরা এখন অনেক সচেতন। অনেকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে গরুকে প্রয়োগ করে থাকেন। নিয়মিত ভ্যাকসিন দেয়ায় এলএসডি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

আরও