রংপুর
বিভাগে ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২৩
হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত
বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ১৪ হাজার ২০৯
হেক্টর জমিতে। প্রতিকূল আবহাওয়া চিন্তায় ফেলে দিয়েছে কৃষককে। চার-পাঁচদিনের মধ্যে এ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ
দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা কৃষকের। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে বলে
মনে করেন তারা।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে বোরো ধান আবাদের জমি এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে যথাক্রমে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫ হেক্টর এবং ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৩ টন চাল। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে রংপুর জেলায় ৬ হাজার ৭২ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তৈরি হয়েছে ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৭১৫ হেক্টর ও উফশী ১ হাজার ১২৫ হেক্টর। গাইবান্ধা জেলায় ৫ হাজার ৯৮৪ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তৈরি হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৮ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৭১০, উফশী ৩ হাজার ৫৭০ এবং স্থানীয় ৮৮ হেক্টর। কুড়িগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ৩৫০ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তৈরি হয়েছে ৪ হাজার ৮৩ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৬৭০ হেক্টর, উফশী ২ হাজার ৩৫০ এবং স্থানীয় ৬৩ হেক্টর। লালমনিরহাট জেলায় ২ হাজার ১২২ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তৈরি হয়েছে ৯৬৬ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ৪২৪ হেক্টর, উফশী ৫৪২ এবং নীলফামারী জেলায় ৩ হাজার ৬৪৮ হেক্টর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তৈরি হয়েছে ১ হাজার ৯৫২ হেক্টর। এর মধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ১৫ হেক্টর ও উফশী ৯৩৭ হেক্টর। গত বছর এ সময় পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল ১৪ হাজার ৪৯ হেক্টর। ১ হেক্টর বীজতলা দিয়ে ২০-২৫ হেক্টর জমি আবাদ সম্ভব।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পীরজাবাদ এলাকার কৃষক আবুল কাশেম ১৫ দিন আগে আট কেজি ব্রি-২৮ ধানের বীজতলা করেছেন। তিনি জানান, বীজতলা দিয়ে প্রায় ১০০ শতক জমিতে চাষ করা যাবে। আরো জমির জন্য নতুন বীজতলা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। কিন্তু শীত বাড়ার কারণে এবং আগামীতে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা থাকায় নতুন বীজতলা করতে কিছুদিন অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোল্ড ইনজুরি থেকে বিদ্যমান বীজতলা রক্ষায় প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে গাছে জমে থাকা শিশির সরিয়ে দিচ্ছেন এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন।
শৈত্যপ্রবাহের বিষয়ে রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মোস্তাফিজার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চার-পাঁচদিনের মধ্যে এ অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বলে। যদি তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে তাহলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে চিহ্নিত হয়। এরই মধ্যে রংপুর অঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা বাড়ছে। বৃহস্পতিবার চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।’
রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কৃষকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এখনো তাদের বীজতলা শীতে তেমন আক্রান্ত হয়নি। সামনে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা থাকায় বীজতলা রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বীজতলার কোল্ড ইনজুরি রক্ষায় প্রযুক্তি এখন অনেক কার্যকর। বীজতলা তৈরির পর এখন কৃষককে সাদা পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে বলা হচ্ছে। জমিতে পলিথিন আটকানোর জন্য চারদিকে কাদা মাটি দিয়ে ভর দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। উপযুক্ত চারা জমিতে রোপণ করার আগে কয়েকদিন মাঝে মাঝে বীজতলার পলিথিন সরিয়ে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। এটি বর্তমানে সহজ পদ্ধতি এবং কৃষকের জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়।’ এছাড়া যদি শীতে বীজতলা আক্রান্ত হয়, তাহলে সঠিক পরামর্শের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন।