ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম নামে দলের এক কর্মী হয়েছেন। নিহত নজরুল ইসলাম উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে ময়মনসিংহ -১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া সালমান ওমর রুবেল ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার এরশাদ বাজারে নিজের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যান স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল। উদ্বোধন শেষে ফেরার পথে বিএনপি প্রার্থী প্রিন্সের সমর্থক ফরহাদ, আজহারুল, শাহাজাহান মেম্বার, আদম আলীসহ বেশ কয়েকজন রুবেলের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এ সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন নজরুল ইসলাম। স্থানীয়রা উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সালমান ওমর রুবেল বলেন, আমাদের অফিস উদ্ধোধন করে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে প্রিন্স ভাইয়ের লোকজন। এ সময় নজরুল ইসলামকে আটকে ছুরিকাঘাত করে ফরহাদ, আজহারুল, শাহজাহান মেম্বার, আদম আলী। পরে তাকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আমার কর্মী নজরুল ইসলামকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
অন্যদিকে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আমি পুরাপুরি অবগত নই। তবে প্রাথমিকভাবে যেটুকু শুনেছি, এটা তাদের পারিবারিক সমস্যা নিয়ে ঝামেলা। এটাকে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছুরিকাঘাতে একজন মারা যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।