জয়পুরহাট শহরে হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। গত সপ্তাহে পেটের এ রোগটি দেখা দিলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আটদিনে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫৭ জন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৬০ জন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশু রোগীর সংখ্যাই বেশি। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী পৌরসভার বাসিন্দা।
রোগীর স্বজনরা বলছেন, পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই ময়লা-আবর্জনা জমাট বাঁধে। পৌরসভার সরবরাহ করা পানির লাইনে আবর্জনা প্রবেশের কারণেই এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পূজা উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত মেলায় খোলা খাবার খাওয়ার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভার থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বেলাল জানান, বুধবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রীর বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বেড না পেয়ে বারান্দায় বিছানা পেতে আছেন।
ডায়রিয়া আক্রান্ত পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে ড্রেনের ময়লা যুক্ত হয়ে দূষিত হচ্ছে। ওই পানি পান করেই আমার এ অবস্থা হয়েছে।’
তবে পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অভিযোগের পর আক্রান্ত পৃথক তিনটি এলাকা থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে বগুড়ায় ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এছাড়া পানির কারণে ডায়রিয়া হলে গোটা পৌরসভার বাসিন্দা আক্রান্ত হতো।’
জয়পুরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোছা. উম্মে রোমান খান জনি বলেন, ‘অভিযোগের পর আক্রান্ত তিনটি স্পট থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় পানিতে ত্রুটি পাওয়া যায়নি। জনস্বাস্থ্য যেন হুমকির মুখে না পড়ে সেজন্য জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করাসহ আমাদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’
হাসপাতালের সহকারী চিকিৎসক মো. হারিছ বলেন, ‘আট দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। অধিকাংশ রোগীই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার। রোগীদের অনেকেই পৌরসভার সরবরাহ করা পানিকে দায়ী করছেন। পরীক্ষা করলেই বিষয়টি জানা যাবে।’
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সরদার রাশেদ মোবারক বলেন, ‘আট দিন ধরে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ অনেক বেশি। পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ও উন্মুক্ত খাবারের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত দুদিনে নতুন করে ৬০ জন ভর্তি হয়েছে। যে পরিমাণ রোগী সুস্থ হচ্ছেন তার চেয়ে বেশি ভর্তি হচ্ছেন। তবে ডায়রিয়া প্রভাব রোগীর শরীরে পাঁচ দিন থাকছে। এরপর স্বাভাবিক হচ্ছে।’
সিভিল সার্জন আল মামুন বলেন, ‘ডায়রিয়া সাধারণত পানিবাহিত রোগ। পানি অথবা ভেজাল এবং খোলা খাবার থেকেই রোগটি ছড়ায়। জনসচেতনার জন্যই সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জুম মিটিং করেছি। ডায়রিয়া রোগী সবচেয়ে বেশি জয়পুরহাট পৌরসভায় ও পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। গতকাল পর্যন্ত জয়পুরহাট সদর হাসপাতাল ও পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া একই সময়ে কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরো ৪০ জন ভর্তি হয়েছে।’