নোয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে ধানবীজ উৎপাদন করছেন কৃষক

স্থানীয় বিভিন্ন জাতের বদলে নোয়াখালীর চরাঞ্চলে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়ে আসছে দুই যুগের বেশি সময় ধরে।

স্থানীয় বিভিন্ন জাতের বদলে নোয়াখালীর চরাঞ্চলে হাইব্রিড ধান আবাদ হয়ে আসছে দুই যুগের বেশি সময় ধরে। তবে এ জাতের ধানবীজ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাজার থেকেই প্রতি বছর কিনতে হয়। এবার বিভিন্ন কোম্পানির বীজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উফশী জাতের বোরো ধান চাষ করছেন কৃষক। পাশাপাশি বীজ সংরক্ষণ করছেন। পরে তা বাজারজাত করছেন। সম্প্রতি পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটের অর্থায়নে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি এ বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর সুবর্ণচর উপজেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যার মধ্যে ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর হাইব্রিড জাতের ধান। বাকি ৮০০ হেক্টর জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উফশী জাতের কয়েক ধরনের ধান আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, প্রতি বছর বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির হাইব্রিড ও দেশীয় উফশী জাতের বীজ কিনে আবাদ করে আসছেন তারা। হাইব্রিডের বাইরে ব্রি উদ্ভাবিত উফশী ২৮, ২৯, ৫০ ও ৫৫ ধানই মূলত আবাদ হতো। এর মধ্যে হাইব্রিড বীজের প্রতি কেজির দাম ৩৫০-৫০০ টাকা। আর উফশী প্রতি কেজি বীজের দাম ৫০-১০০ টাকা। প্রতি একর জমিতে হাইব্রিড ধানবীজ লাগে ৬ কেজি এবং উফশী জাতের বীজ লাগে ১০ কেজি। এসব বীজের মধ্যে হাইব্রিড প্রতি একরে উৎপাদন হয় ৯০ মণ। উফশী ব্রি-২৮, ২৯, ৫০ ও ৫৫ উৎপাদন হয় ৭০-৭৫ মণ।

নতুন উদ্ভাবিত বোরো ধানের বিভিন্ন জাতের বিষয়ে কথা হয় ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের (সোনাগাজী ও ফেনী) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মূলত উচ্চফলনশীল আধুনিক ধানের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে প্রতিনিয়ত গবেষণা করে আসছে ব্রি। তারই ধারাবাহিকতায় বোরো মৌসুমের সর্বশেষ জাত ব্রি-৭৪, ৮১, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৬, ৯৭, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৪, ১০৫, ১০৭ ও ১০৮ উদ্ভাবন করা হয়। এসব জাতে ধানে ফলন হচ্ছে হাইব্রিডের মতো। কখনো কখনো হাইব্রিড ধানের চেয়েও বেশি। একই সঙ্গে নতুন উদ্ভাবিত এসব জাতের মধ্যে ব্রি-৭৪, ৮৪, ১০০ ও ১০২ জিংক ও উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। ব্রি-৮৪ জাতের ধানে জিংকের পাশাপাশি আয়রণও রয়েছে। ব্রি-১০১ পাতাপোড়া রোগ প্রতিরোধী, ব্রি-১০৪ সুগন্ধি ও বাসমতী টাইপ এবং ব্রি-১০৫ ডায়াবেটিস রোগীদের খাওয়ার উপযোগী। এসব জাতের ধান চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, ভোক্তারাও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবেন।’

আরও