রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাবে অনেক রেস্তোরাঁয় ভোক্তার সংখ্যা কমে গেছে। কোনো কোনো রেস্তোরাঁয় বেচা-বিক্রি নেমেছে অর্ধেকে। আবার যারা খেতে আসছেন, তারা নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করছেন রেস্তোরাঁ মালিকদের। ভোক্তারা বলছে, বেইলি রোডের ঘটনায় যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তাতে প্রিয়জন নিয়ে তারা আর রেস্তোরাঁয় বসার সাহস পাচ্ছে না। প্রয়োজন পড়লে অনলাইন থেকে কিনছে কিংবা রেস্তোরাঁয় গিয়ে পার্সেল নিয়ে আসছে।
রাজধানীর বেইলি রোডে প্রতি সপ্তাহেই আসা হয় ইবরাহিম খলিলের। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি শুক্রবার পরিবারের সবাই মিলে বেইলি রোডের “কাচ্চি ভাই” বা “কাচ্চি ডাইনে” বসতাম। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের পর এখনো সেদিকে যাওয়া হয়নি। আপাতত যাওয়ার ইচ্ছাও নেই। কারণ একটি ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, আমরা কতটা ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি!’
রাজধানীর বেইলি রোডের ‘নবাবী ভোজ’-এর ক্যাশিয়ার মো. রাশেদ বলেন, ‘আমাদের দোকানের পাশেই গ্রিন কোজি কটেজ। এদিকের অবস্থা ভালো নয়। স্বাভাবিকভাবেই মানুষজন এদিকে কম আসছে। দু-একজন যা আসছে, তারা জিজ্ঞেস করছে, ফায়ার এক্সিট আছে কিনা। বেচা-বিক্রি অনেক কমেছে। যারা আসছে, তাদের অনেকেই খাবার পার্সেল করে নিয়ে যাচ্ছে।’
বেইলি রোডের মতো রাজধানীর ধানমন্ডিতেও অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব রেস্তোরাঁয় সারা দিন মানুষের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু বেইলি রোডের ঘটনায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
ধানমন্ডির ‘রয়েল ব্যুফে’র কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানেও মানুষের আসা কমেছে। বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এটা অবশ্য স্বাভাবিক, হয়তো কয়েক দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তবে অনেকে পার্সেল নিচ্ছে।’
ধানমন্ডির ‘চৌধুরী ডাইনিং’-এর কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ‘বেইলি রোডের ঘটনার পর বিক্রি অনেক কমেছে। আগে দিনে ৪৫-৫০ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন ২০-২২ হাজারে নেমেছে। মানুষ অনেক কম আসছে।’
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, ‘বেশির ভাগ রেস্তোরাঁর বেচা-বিক্রি খুবই খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, রাজধানীজুড়েই বিক্রি কমেছে।’
বণিক বার্তাকে ইমরান হাসান বলেন, ‘আমরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা চাই, সবাই রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির অধীনে আসুক। অর্থাৎ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ছাড়পত্র ছাড়া কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না। আর ছাড়পত্রের জন্য কেউ আবেদন করলে আমরা তাদের রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করব এবং সব ঠিকঠাক থাকলে ছাড়পত্র দেব। এটা করতে পারলে সবাই একটা নিয়মের মধ্যে আসবে।’
গত বৃহস্পতিবার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুন লাগে। এতে গতকাল পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর গতকাল রাজধানীজুড়ে রেস্তোরাঁয় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এর মধ্যে শুধু ধানমন্ডিতেই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ১৫ রেস্তোরাঁর ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটলে প্রশাসনের টনক নড়ে। অথচ আগে থেকেই প্রস্তুতি বা নজরদারি থাকা দরকার। দুদিক থেকেই কাজ করতে হবে। যারা প্রশাসনে আছেন তাদেরও দায়িত্ব আছে, আবার ভোক্তাদেরও দায়িত্ব আছে। দেখেশুনে পণ্য কিনতে হবে বা সেবা নিতে হবে।’