সাতক্ষীরায় টানা ৮ থেকে ১০ দিনের ভারি বৃষ্টির কারণে তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধানখেত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অন্তত তিন হাজার হেক্টর রোপা আমন ধানখেত, ১৫০ হেক্টর বীজতলা ও ৫০০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি খেত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক আগাম ধান রোপণ করেছেন তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ টাকায় নিরূপণ করতে আরো এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
টানা কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কমপক্ষে ১০ হাজার রোপা আমন চাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যুগরাজপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি চলতি মৌসুমে রোপা আমন মৌসুমে ২০ বিঘা পরিমাণ জমির আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে ৮ বিঘাতে ধান রোপণ করেছেন এবং বাকি ১২ বিঘা রোপণের জন্য বীজতলায় চারা তৈরি রয়েছে। কিন্তু গেল প্রায় ১০ দিনের টানা ভারি বৃষ্টির পানিতে বীজতলা ও ৮ বিঘা জমির রোপণকৃত ধানখেত অন্তত তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিন্তু বিলের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বিলের ভেতরে খাল উন্মুক্ত না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রোপা আমন ও সবজিখেত ডুবে গেছে।
একই গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ১৫ বিঘা জমিতে ৮৭ ও গুটিস্বর্ণ জাতের ধানের আবাদ করেছেন। দুই সপ্তাহ আগে ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু কয়েকদিনের অতি বৃষ্টির কারণে সমস্ত ধানখেত ডুবে গেছে কোমর সমান পানিতে। কৃষক আব্দুর রশিদ ও রেজাউল ইসলাম আরো বলেন, জেলা সদরের সবচেয়ে বৃহৎ বিল হচ্ছে যুগরাজপুর গ্রামে। তাদের বিলের শতভাগ পানির নিচে তলিয়ে আছে। এতে করে ২ থেকে আড়াই হাজার কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তারা।
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা গ্রামের সবজি চাষী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক সপ্তাহের বিরামহীন বৃষ্টির কারণে চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের ৪ বিঘা জমির সবজিখেত দেড় থেকে দুই হাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে করে ঢেড়শ, বরবটি, পটল, মুখিকচু এবং ওলসহ অন্তত ৩ লাখ টাকার সবজি পানিতে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে জেলায় ৮৮ হাজার ৭৭০ হেক্টর জমির আবাদ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পরিমাণ আবাদ শেষ হয়েছে। কিন্তু গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টির কারণে জেলার প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধানখেত ও আনুমানিক ১৫০ হেক্টর বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। তাছাড়া প্রায় ৫০০ হেক্টর পরিমাণ জমির সবজিখেত তলিয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। তিনি বলেন, বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা একটু আগে ধান রোপন করেছেন তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত রোপা আমন, বীজতলা ও সবজিখেতের টাকার হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে আরো অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান।