বগুড়ায় ৮ মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

হিটলুর বিরুদ্ধে ধুনট থানাসহ বিভিন্ন থানায় জুয়া, মাদক, ও পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ ৮টিরও অধিক মামলা আছে। এছাড়াও গ্রামের সাধারণ মানুষদের হয়রানিসহ ভয়ভীতি দেখানো অভিযোগও রয়েছে হিটলুর বিরুদ্ধে। তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বের হয়ে এসে সে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হিটলুর প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়েই তাকে হত্যার পর লাশ কবরস্থানে পুঁতে রাখে। পরে সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার ময়না তদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পুলিশ সদস্যকে পেটানো, মাদক ও জুয়া আইনের মামলাসহ ৮ মামলার আসামি আরিফুল ইসলাম হিটলুকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আজ রোববার সকালে কবরস্থানের পুরাতন একটি কবর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত আরিফুল ইসলাম উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার ধুনট উপজেলা ও শাজাহানপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চালাচ্ছেন হিটলু। শনিবার সন্ধ্যায় শাজাহানপুর উপজেলার খালপার ব্রিজের উত্তরপাশে আবারো জুয়ার আসর চলার সময় মাদক ও জুয়ার টাকা নিয়ে সহযোগী আব্দুল মালেকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় তার। এক পর্যায়ে মালেককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে হিটলু। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। আহত আব্দুল মালেক ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। 

এ ঘটনার পর হিটলু ওই স্থান ত্যাগ করে ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে যায়। এসময় প্রতিপক্ষরা হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নিয়ে চলে যায়। রোববার সকাল থেকে ধুনট উপজেলার পাশের শাজাহানপুর উপজেলার ক্ষুদ্রফুলকোট উত্তরপাড়া গ্রামের বটতলা কবরস্থানে রক্তের দাগ ও একজনের পা বের হয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং পুলিশে খবর দেয়। শাজাহানপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ধুনট থানা পুলিশ ওই কবর থেকে হিটলুর মরদেহ উদ্ধার করে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা জানান, হিটলুর বিরুদ্ধে ধুনট থানাসহ বিভিন্ন থানায় জুয়া, মাদক, ও পুলিশের ওপর হামলার মামলাসহ ৮টিরও অধিক মামলা আছে। এছাড়াও গ্রামের সাধারণ মানুষদের হয়রানিসহ ভয়ভীতি দেখানো অভিযোগও রয়েছে হিটলুর বিরুদ্ধে। তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হলেও জামিনে বের হয়ে এসে সে আবারো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে হিটলুর প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়েই তাকে হত্যার পর লাশ কবরস্থানে পুঁতে রাখে। পরে সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার ময়না তদন্তের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আরও