দুদিন ধরে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে যশোরে। এতে গাছ নুইয়ে পড়ায় ধান সংগ্রহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফলন কমে যেতে পারে। কৃষি বিভাগ বলছে, বৃষ্টিতে ধানের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সংগ্রহে খরচ বাড়তে পারে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে যশোরে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০০ হেক্টর। শ্রমিক সংকট নিরসনে এবার ৬২টি মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হবে। এক সপ্তাহ পর পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। তবে এরই মধ্যে কিছু এলাকায় আগাম ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তাফা জানান, তিনি এবার চার বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এরই মধ্যে ধান কাটার মতো হয়ে এসেছে। অথচ দুদিন ধরে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। এতে ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে। পানিতে ভিজে ধানের ভেতরের শস্যদানা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই কথা বলেন শার্শা উপজেলার শালকোনা গ্রামের সাহেব আলী। তিনি বলেন, এভাবে আর দু-তিনদিন বৃষ্টি হলে আমরা চরম ক্ষতির শিকার হব। যাদের ক্ষেতের ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে, তাদের বেশি ক্ষতি হবে।
মণিরামপুর উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন বলেন, এবার দুই বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। গাছের বৃদ্ধি ভালো হলেও বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বৃষ্টিতে কোনো ক্ষতি হবে না। ধানে চিটা হওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। তবে যেসব এলাকায় ধানগাছ নুইয়ে পড়েছে, সেসব এলাকায় কৃষকদের শ্রমিক খরচ বাড়বে। এরই মধ্যে আমাদের পাঁচ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। বাকিগুলো চার-পাঁচদিনের মধ্যে কাটা শুরু হয়ে যাবে। কৃষকদের সুবিধার্থে ৬২টি ধান কাটা মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকরা শুধু মেশিনের তেলের দাম পরিশোধ করবেন।