কুড়িগ্রামের
নাগেশ্বরী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা চরঞ্চল নারায়াণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘড়ি গ্রামের গাছে গাছে চার শতাধিক মৌচাক ঝুলছে।
এর মধ্যে চৌদ্দঘড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা ভবনের চারপাশের দেয়াল ও মাঠের বিভিন্ন
গাছে বাসা বসেছে দুই শতাধিক মৌচাকের।
এ অবস্থায় বর্তমানে
বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়টির পাঠদান কার্যক্রম।
বিভিন্ন সময় মৌমাছির আক্রমণের শিকার হয়ে আতঙ্কে দিন পার করছে স্থানীয়রা। তবে
উপজেলা বন কর্মকর্তার দাবি, সরিষা মৌসুম
শেষ হলেই চলে যাবে মৌমাছি।
স্থানীয়দের
মাধ্যমে খবর পেয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর বিষয়টি নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জাহান উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা সাদিকুর রহমানকে জানান।
পরদিন বন বিভাগের ওই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, চরাঞ্চলে ব্যাপক
হারে সরিষার চাষ হওয়ায় প্রকৃতিগতভাবেই মৌমাছি এখানে এসে চাক বেঁধেছে।
সরিষা মৌসুম শেষের দিকে।
মৌমাছিগুলো এখন আপনাআপনি চলে যাবে।
এছাড়া করার কিছুই নেই।
এরই মধ্যে দু-একটি
করে মৌমাছির ঝাঁক চলে যেতে শুরু করেছে।
আপাতত বিকল্প জায়গায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের
প্রধান শিক্ষক মন্টু চন্দ্র সেন জানান, মৌমাছির কারণে
বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে বই উৎসব করা হয়েছে।
বর্তমানে পাঠদান বন্ধ থাকলেও মৌমাছি চলে যেতে শুরু করেছে।
আগামী সপ্তাহে যদি মৌমাছিগুলো চলে যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান শুরু হবে।
আর মৌমাছি থাকলে বিকল্প জায়গায় ক্লাস নেয়া হবে।
প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়কে মৌমাছির
উপদ্রব সহ্য করতে হয়।
এটা প্রায় ৮-১০
বছর ধরে চলছে।
তবে এবার সংখ্যায় বেশি হওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়রা
জানায়, মৌমাছির ভয়ে
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক না
আসায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম।
মৌচাকে চিল ও বাজপাখির হানায়
মৌমাছি হিংস্র হয়ে মানুষ, গরু,
ছাগলকেও আক্রমণ করে।
এতে করে আতঙ্ক বিরাজ করছে বিদ্যালয়ঘেঁষা সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের মাঝেও।
এ
ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জাহান জানান, দুধকুমার ও গঙ্গাধর নদী
দ্বারা বিচ্ছিন্ন ভারতের সীমান্তলাগোয়া নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
চরাঞ্চলের এ বিদ্যালয়ের চারপাশের
কার্নিশ, জানালার সানসেট, বারান্দাসহ তিন তলা ভবনের বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য চাক বেঁধেছে মৌমাছি। বিভিন্ন
জাতের গাছের ডালে ডালে ঝুলে আছে ছোট-বড়
দুই শতাধিক মৌচাক।
আরো দুই শতাধিক মৌচাক রয়েছে গ্রামের গাছে গাছে।
প্রতি বছর শীতের শুরুতে স্বল্পসংখ্যক মৌমাছি এসে এ বিদ্যালয় ভবনে
চাক বাঁধলেও এবার মৌচাকের সংখ্যা বেড়ে গেছে বহুগুণ।
সীমান্তবর্তী ভারতের পাহাড়ে ঠাণ্ডার মাত্রা বেশি হওয়ায় অথবা এ সময়টায় চরাঞ্চলের
ব্যাপক হারে সরিষার চাষ হওয়ায় মৌমাছির ঝাঁক এখানে আবাসস্থল গড়ে তুলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।