বরিশাল বিভাগ

বেসরকারি ৩১ পলিটেকনিক কলেজের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস আছে দুটির

বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজ রয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে মাত্র দুটির। বাকি ২৯টিই চলছে ভাড়া বাড়িতে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম ও ল্যাব নেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে শিক্ষার্থীরা এসব পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হলেও অনেকে শেষ পর্যন্ত কোর্স সম্পন্ন করতে পারছেন না।

বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজ রয়েছে ৩১টি। এর মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস রয়েছে মাত্র দুটির। বাকি ২৯টিই চলছে ভাড়া বাড়িতে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ক্লাসরুম ও ল্যাব নেই এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে শিক্ষার্থীরা এসব পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হলেও অনেকে শেষ পর্যন্ত কোর্স সম্পন্ন করতে পারছেন না।

তবে এসব কলেজের পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষা কার্যক্রম অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভালো চলছে। ভালো অবস্থানে থাকা পলিটেকনিক কলেজগুলোর পরিচাকরা বলছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত ভালোই চলছিল। কভিডের সময় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গিয়ে এখন কলেজগুলো খারাপ সময় পার করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর কাশিপুরে অবস্থিত ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও রূপাতলীর আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ভবন রয়েছে। শিক্ষক, ল্যাব ও পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ থাকায় শিক্ষার্থীও রয়েছে পর্যাপ্ত। বাকি ২৯টি কলেজের নিজস্ব ভবন, পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ, শিক্ষক ও ল্যাব সুবিধা নেই। এসব কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর পড়ালেখার মান ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ঝরে পড়ছে বলে দাবি অভিভাবকদের।

বরিশাল আঞ্চলিক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে পটুয়াখালীতে। এখানে ইনস্টিটিউট রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে বাউফল উপজেলায় রয়েছে চারটি, পটুয়াখালী সদরে দুটি, গলাচিপায় তিনটি ও কলাপাড়ায় দুটি। ঝালকাঠি জেলায় দুটি, পিরোজপুরে দুটি, ভোলায় তিনটি ও বরগুনায় চারটি।

এছাড়া বরিশাল জেলায় রয়েছে নয়টি। এর মধ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলার মডার্ন পলিটেকনিক কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে কভিডের সময়। জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কলেজ চালু রয়েছে আটটি। এর মধ্যে রয়েছে নগরীর ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, আইডিয়াল পলিটেকনিক, ইউনাইটেড পলিটেকনিক কলেজ, টেকনোক্রেট পলিটেকনিক কলেজ, ডায়নামিক পলিটেকনিক কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, বরিশাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি কলেজ ও মুলাদী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ।

বরিশাল আইডিয়াল পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. জহির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০০৬ সালে ভাড়া বাড়িতে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়ে ভালোভাবেই চলে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৪ সালে রূপাতলীতে নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণ করা হয়। তখন ৪০০ আসনই পূরণ হয়ে যেত। তবে কভিডের পর আমাদের চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এখন ৪০০ আসনের অনুকূলে শিক্ষার্থী রয়েছে ৩০০।’

একই কথা বলেন বরিশালের নাজিরের পুলের ডায়নামিক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রকৌশলী জুয়েল খান। ভাড়া বাড়িতে কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। তবে নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্য জমি কিনেছেন নগরীর পাশের শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নে। শিগগিরই সেখানে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করবে। তবে সব সুবিধা থাকলেও এখন আগের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না। কভিডের আগে সিট দেয়া যেত না। এখন শিক্ষার্থীই আসছে না। কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণীকক্ষ ও ল্যাব সুবিধা রয়েছে।

ওই কলেজের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সামছুল হক বলেন, ‘এখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও ল্যাব সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় পড়ালেখার মান মোটামুটি। বাইরে থেকে বোঝার কোনো সুযোগ নেই, কেমন চলছে কলেজ। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই বুঝবে। আমার ছেলেকে ভর্তি করে এখন বাইরে প্রাইভেট বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশালের আঞ্চলিক পরিদর্শক আরিফুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সরকারি পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রম দেখভাল করি। আর বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষকদের এমপিও কার্যক্রম পরিচালনা করি। বিষয়গুলো দেখভালের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে। তারা কলেজগুলোর দেখভাল করছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস, ল্যাব না থাকা, অভিজ্ঞ শিক্ষক সমস্যার বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ করে অনেকে। আমরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে তাদের যাওয়ার পরামর্শ দিই।’

তিনি বলেন, ‘কলেজ স্থাপনের ১০ বছরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানছে না অনেকে। কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী সংকট ও আয়ের দিকে বিবেচনার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করে আসছে।’


আরও