ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নদীরপাড় কেটে বাজার ভরাটের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আউলিয়াজুড়ি নদী। তীরে গড়ে উঠেছে চম্পকনগর বাজার। সম্প্রতি নদীর পাড় কেটে বাজারের জমি ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আউলিয়াজুড়ি নদী। তীরে গড়ে উঠেছে চম্পকনগর বাজার। সম্প্রতি নদীর পাড় কেটে বাজারের জমি ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশে নদীর পাড় কেটে সরকারি জায়গা ভরাট করা হচ্ছে। মাটি তোলা হচ্ছে নদীর পাড়ের জমি থেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্রস্থল চম্পকনগর বাজার। আখাউড়া-চান্দুরা সড়কের ঠিক পাশেই বাজারটির অবস্থান। আখাউড়া থেকে চান্দুরা যেতে চম্পকনগর ইউনিয়নের নূরপুর বাজারে প্রবেশ পথে দেখা যায় আউলিয়াজুড়ি নদী। গত দুদিন বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশ থেকে নদীর পাড় কাটা হচ্ছে। সেই মাটি দিয়ে সরকারি জমি ভরাট করা হচ্ছে।

মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত ভেকু পরিচালনাকারী হাবিব মিয়া বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছে পাশের নবী চৌধুরীর জমি থেকে মাটি নিয়ে নদীর পাড়ে ফেলার জন্য। শুনেছি মাটি কাটার জন্য নবী চৌধুরীর কাছ থেকে জায়গাটি কেনা হয়েছে। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। সবকিছুই করছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। বাজার বাড়ানোর স্বার্থে এটা করা হচ্ছে বলে শুনেছি।’

নবী চৌধুরী বলেন, ‘জায়গাটি আমাদের মালিকানাধীন। অনেকদিন ধরে আমাদের দখলে থাকলেও বিভিন্ন কারণে দলিল হয়নি। যে কারণে জায়গাটি জেলা প্রশাসনের অধীনে চলে গেছে। প্রায় ৫০ শতকের মতো জায়গা বাজারের স্বার্থে দেয়া হয়েছে। গ্রামের সবাই মিলে চাওয়ায় আমি আমার এ জমিটি দিয়ে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জায়গাটি নবী চৌধুরীর। আমরা কিনে নিয়েছি। পাশের জমি যার নদীর পাড়ও তার। দরকার হলে সরকারকে টাকা দেব। ইউএনওসহ সবাই জায়গা ভরাটের বিষয়টি জানেন। আমরা এখানে গরু ও মাছের বাজার করব।’

তবে বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, ‘নদীর পাড় যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য মাটি ফেলবেন বলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। এখানে বাজার করার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এখানে যদি বাজার করতে হয়, তাহলে আবেদন করতে হবে। তখন বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।’

আরও