জেলার বরকল, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসএসসি পাসের হার কমা ও শূন্য পাসের পেছনে নানামুখী সংকটের বিষয়টি সামনে উঠে এসেছে। বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, দক্ষ শিক্ষক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এখানকার প্রধান সংকট।
রাঙ্গামাটি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় জেলার বরকল উপজেলার দুর্গম এলাকার আন্ধারমানিক মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১০ শিক্ষার্থী, বাঘাইছড়ি উপজেলার শিজক দজর বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাঁচ এবং লংগদু উপজেলার মহালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৫ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩০ জন অংশগ্রহণ করেন। ঘোষিত ফলাফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিনটির কেউই পাস করে। তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সবাই ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল। দুর্গমতা পাহাড়ের বড় সংকট।
অন্যদিকে পারিবারিকভাবে সাক্ষরতার ঘাটতি থাকায় পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়কেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে বাসায় এসে শিখন কার্যক্রমে সহযোগিতা পায় না। যে কারণে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, দক্ষ শিক্ষক সংকট, মোবাইল আসক্তি, অভিভাবকের অসচেতনতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থ অপ্রতুলতাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরকল উপজেলার আন্ধারমানিক মাইসছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছর প্রথমবারের মতো ১০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তার মধ্যে সবাই ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সূচিপ্রিয় চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৭০। এর মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং তাদের সবাই এক বিষয়ে অর্থাৎ ইংরেজিতে ফেল করেছে।’
লংগদু উপজেলার মহালছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনোদবিহারী চাকমা জানান, তার বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১২। এবারই প্রথমবার এসএসসি পরীক্ষায় ১৫ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং সবার ইংরেজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ এসেছে। তবে সবাই পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেছে। ফলাফল সংকটের কারণ হিসেবে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। নৌকায় করে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। তার মধ্যে দক্ষ শিক্ষকের অপ্রতুলতা ও অভিভাবকদের উদাসীনতাও দায়ী।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রোগ্রামার শান্তিপ্রিয় চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাঙ্গামাটির তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে এবং সবাই ইংরেজিতে ফেল এসেছে। রাঙ্গামাটি জেলায় অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ৭২ শতাংশ ইংরেজিতে খারাপ করেছে।’
রাঙ্গামাটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সরিৎ কুমার চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের কিছু সংকট রয়েছে। দক্ষ জনবলের অভাব। এছাড়া দুর্গম এলাকাগুলোয় শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ বা যাতায়াতের সমস্যা অন্যতম।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য শিক্ষাবিদ নিরূপা দেওয়ান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার ভিতই নড়বড়ে। এখানে হাইস্কুলে এসেও ছাত্রদের প্রাথমিকের পড়া শেখাতে হয়। প্রান্তিক এলাকায় মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক সংকট রয়েছে।’