গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শন করেছিল ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সেগুলো সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ঢাবির সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আজম, মতিউর রহমান নিজামী, দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মুজাহিদ, মীর কাসেম আলী, কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি শিবিরের সম্মতিক্রমে সরিয়ে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিন, টিএসসিতে চিত্রপ্রদর্শনীর স্থানে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী নেতাকর্মীরা। কিছু পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম। পরবর্তীতে ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ছাত্রশিবিরকে জানিয়ে এবং তাদের সম্মতিতেই ছবি সরানো হয়েছে বলে জানান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঢাবি ছাত্রশিবিরের ছাত্র আন্দোলন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।
সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে শিবিরের সম্মতিক্রমেই ছবিগুলো সরানো হচ্ছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমরা চাই না।’
এর আগে উক্ত চিত্রপ্রদর্শনী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বামপন্থী নেতাকর্মীরা ব্যাপক আপত্তি জানাতে থাকেন। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বেশ কিছু নেতাকর্মীও ছবিগুলো সরিয়ে ফেলার জন্য শিবিরের কাছে অনুরোধ করেন।
ছাত্রশিবিরের তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর তাৎপর্য তুলে ধরা, শহিদ ও আহত পরিবারের অভিজ্ঞতা সরাসরি শোনা এবং প্রতিরোধ চেতনা পুনর্জাগরণের প্রয়াস থাকবে। পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে গণআলোচনাও কর্মসূচির অন্যতম অনুষঙ্গ।
আজ প্রথম দিনে ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, বিপ্লবী গান ও কবিতা, শহিদ পরিবার ও আহতদের স্মৃতিচারণ, বিকেলে মাইম পরিবেশনা ও নাটক এবং রাতে ব্যতিক্রমধর্মী ‘প্ল্যানচেট বিতর্ক’—এই আয়োজনগুলো দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেস’ নামক একটি চলমান ট্রেনের আদলে নির্মিত ডকুমেন্টারিতে দেখানো হয় কিভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হন সাধারণ মানুষ এবং কিভাবে এক একজন শহিদ হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের প্রতীক।