দৗেলতদিয়া ঘাটে বাসডুবির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন

ফিটনেসবিহীন বাসে ছিল যান্ত্রিক ত্রুটি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

প্রতিবেদনে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিটনেস সনদ না থাকা এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গতকাল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে।

তিনি জানান, ১১ জুন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

উছেন মে বলেন, ‘তদন্তে বাসটির যান্ত্রিক ত্রুটি, ফিটনেস সনদের অনুপস্থিতি এবং দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বেশকিছু সুপারিশও করা হয়েছে।’

প্রতিবেদনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের আধুনিকায়ন, অ্যাপ্রোচ সড়কের উন্নয়ন, ঘাট ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক ঘাট ব্যবস্থাপনা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।’

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়া গেছে। এতে দুর্ঘটনার কারণ ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। প্রতিবেদনটি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

গত ৫ জুন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি ‘কবরী’-তে ওঠার সময় পন্টুনসংলগ্ন র‌্যাম্প ভেঙে এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার দিনই জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই ঘটনায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ও পৃথক চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

আরও