চলছে গ্রীষ্মকাল। তীব্র গরমে মানুষের দশা বেহাল। মানুষ-পশুপাখির মতোই নাকাল দশা গাছপালার। প্রচণ্ড গরমে গাছের চারা শুকিয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই গরমে তাই শখের গাছগুলো ভালো রাখতে হলে দরকার বাড়তি যত্ন।
প্রথমেই ছাদের বা বারান্দার গাছগুলোকে সরাসরি রোদ থেকে কোনো ছায়াযুক্ত স্থানে সরিয়ে নিন। ছাদে যদি বড় কোনো গাছ থাকে তার ছায়ায় ছোট টবগুলো রাখুন। যদি সেটা সম্ভব না হয় তাহলে আলাদা খড়, কাপড়, পেপার বা গ্রিনশেড দিয়ে ছাদের গাছগুলোর ওপরে সরাসরি সূর্যের রোদ প্রতিরোধী একটা অস্থায়ী শেড বানিয়ে নিন। পাশাপাশি ব্যালকনির গাছগুলোও রোদের দিক থেকে সরিয়ে একটু ভেতরের দিকে রাখুন।
গরমে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এ কারণে অনেকের মনে হতে পারে গাছের গোড়ায় বেশি বেশি পানি ঢালা উচিত। ভুলেও তা করবেন না। পানি দেয়ার আগে অবশ্যই মাটির অবস্থা পরীক্ষা করে নিতে হবে। যদি স্যাঁতসেঁতে থাকে, তবে গোড়ায় না ঢেলে গাছের পাতায় পানি ছিটিয়ে দিলেই হবে।
গরমের সময় গাছে পানি দিতে সকালের ঠান্ডা আবহাওয়া বেছে নিন। তাহলে বাষ্পীভবনের জন্য পানি নষ্ট না হয়ে মাটির ভেতরের দিকে ভালোভাবে যেতে পারবে। পাশাপাশি গাছগুলো সারাদিন পানি পাবে আর ভালোভাবে সূর্যের তাপ মোকাবিলা করতে পারবে।
কিছু গাছ আছে যেগুলোর কাণ্ড খুবই নরম। এ ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে পানি ঢালতে হবে। একবারে পানিতে ভিজিয়ে না দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর একটু একটু করে পানি দিতে হবে। ফলে গাছের পাতা বা কাণ্ড ঢলে পড়ার কোনো ভয় থাকবে না।
এ সময় মাটি সমৃদ্ধ করার একটি দুর্দান্ত উপায় হলো জৈব পদার্থ বা কম্পোস্ট যোগ করা। জৈব পদার্থ বা কম্পোস্ট মাটির পানির সংরক্ষণ বৃদ্ধি করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে।
জৈব পদার্থ বা কম্পোস্ট, যেমন নারকেল ছোবড়া, পিট মস, গোবর, পচা সবজি ইত্যাদি। এ ছাড়া চাল বা ডাল ধোয়া পানি, পেঁয়াজ, আলুসহ সব সবজির খোসাও নিয়মিত গাছে দিলে গাছের পুষ্টি সরবরাহ বেড়ে যায়। তবে কোনো রকম রাসায়নিক সার ব্যবহার না করাই ভালো।
গরমে গাছ রিপটিং করবেন না অথবা কাটছাঁট করবেন না। কারণ কোনোভাবে যদি গাছের শিকড় কেটে যায় বা ডালপালা বেশি ছাঁটাই হয়ে যায়, গরমে নাজুক গাছগুলোর এই কাটা অংশ খুব জলদি শুকিয়ে যাবে এবং পাতা ঝিমিয়ে গাছগুলো মরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে।