শ্রমিক সংকট

হিলিতে পানির নিচে পাকা ধান, দিশেহারা কৃষক

গত দুই দিনের বৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হেলে পড়া ও পানিতে ডোবা ধান শ্রমিকরা কাটতেও চাইছে না। বাধ্য হয়ে নিজেরা কাটছি। ওপরের কিছু ধান কাটতে পারলেও বাকি ধান পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে। এর কারণে ধানের ফলন কম হবে।

শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরির কারণে দিনাজপুরের হিলিতে বোরো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক। ঘূর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে যেমন কাটতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনই ধানের ফলন কমে যাওয়ায় শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

কৃষি অফিস বলছে, কাঁচা ধানের খুব একটা সমস্যা না হলেও পাকাধান যেগুলো হেলে পড়েছে কিংবা পানিতে তলিয়ে গেছে সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে হবে। অন্যথায় পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাবে।

হিলির ইসমাইলপুরের কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে খুব বিপাকে পড়েছি। শ্রমিকও পাচ্ছি না। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে, এক বিঘা জমির ধান কাটতে ছয়-সাত হাজার টাকা লাগছে। যেখানে ধানের ফলন হতো ২০ মণ, এখন সেখানে ১২ থেকে ১৪ মণ করে হবে। এতে লাখ দূরের কথা খরচই উঠবে না।

আরেক কৃষক মজনু মিয়া বলেন, গত দুই দিনের বৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। সব ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। হেলে পড়া ও পানিতে ডোবা ধান শ্রমিকরা কাটতেও চাইছে না। বাধ্য হয়ে নিজেরা কাটছি। ওপরের কিছু ধান কাটতে পারলেও বাকি ধান পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে। এর কারণে ধানের ফলন কম হবে। 

হিলির চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম বলেন, অনেক আগেই ধান পেকেছে, কিন্তু শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারেনি। তার ওপর বৃষ্টিতে সমস্যা আরও প্রকট হলো। বৃষ্টির আগে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি একটু কম থাকলেও এখন তা আরো বেড়ে গেছে। শুধু ধান কেটে সড়কে তুলে দিবে তাতেই শ্রমিকরা সাতহাজার টাকা চাচ্ছে। তাছাড়া ভ্যান ভাড়া রয়েছে একহাজার টাকা। সাতহাজার টাকা দিয়ে এক বিঘা জমি বর্গা নিয়েছি। ফলে কাটা ও মাড়াইসহ অন্যান্য খরচ হিসেব করলে লাভ এখন শুধুই স্বপ্ন। অন্য কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, আমি জিরা ধান লাগিয়েছি। এটা আরো কিছুদিন মাঠে থাকত। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে ডুবে ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন লোকসান ছাড়া লাভের কোন আশা নেই। 

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.মমতাজ সুলতানা বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সাত হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করা হয়েছে। এরইমধ্যে আমাদের এলাকার ৮০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে মাঠে থাকা পাকা ধান, যা কৃষকরা কাটতে পারেনি, সেটার একটু ক্ষতি হতে পারে। তবে তার পরিমাণ খুব বেশি নয়। আর কাঁচা ধান যেগুলো রয়েছে, সেটির কোনও সমস্যা হবে না। বিশেষ করে যেসব ধান দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোর সমস্যা হবে না কিন্তু যেসব ধান শুয়ে পড়েছে সেগুলোর সমস্যা হবে। এসব ধান দ্রুত কেটে ফেলতে হবে। 

আরও