রংপুর
বিভাগের একমাত্র সরকারি মুরগি প্রজনন উন্নয়ন খামারে উৎপাদিত মুরগির বাচ্চার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন বাড়ছে না। গত পাঁচ বছরের
মধ্যে দুটি অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন কমলেও দুটিতে বেড়েছে। অন্যদিকে ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ডিম
উৎপাদন কমলেও পরের দুটি অর্থবছরে বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রজনন
কেন্দ্রে মুরগির বাচ্চা এবং ডিম উৎপাদন কমেছে যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ১৭
ও ৩১ দশমিক ২৮
শতাংশ।
সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে, মুরগির বাচ্চা উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ১৫২ পিস এবং ডিম উৎপাদন কমেছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪২৮ পিস।
এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৯ পিস এবং ডিম উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭৮ পিস। ২০১৯-২০ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৫৩ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় ৯৬ হাজার ৩৮৬ পিস কম। শতকরা হিসাবে ২৭ দশমিক ১২ শাতংশ কম। ওই অর্থবছরে ডিম উৎপাদন হয় ৪ লাখ ৮২ হাজার ৪৯৪ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় ৮৪ হাজার ১১৮ পিস কম। শতকরা হিসাবে ১৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। আগের বছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৩৪৮ পিস বেড়ে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ৬০১। তবে ডিম উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ১৮৪ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৯ হাজার ৩১০ পিস কম। শতকরা হিসাবে ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম।
২০২১-২২ অর্থবছরে বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৫ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ হাজার ৭৬৬ পিস কম। শতকরা হিসাবে ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কম। ওই বছরে ডিম উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ১৭৮ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৫০ হাজার ৯৯৪ পিস। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭২৪ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২ হাজার ৮৮৯ পিস। ডিম উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪৬ পিস, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৪০ হাজার ৩৬৮ পিস।
এছাড়া চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মুরগির বাচ্চা এবং ডিম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ২ লাখ এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার পিস ধরা হয়েছে। যদিও গত তিন মাসে মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হয়েছে ৫০ হাজার এবং ডিম ১ লাখ ২০ হাজার পিস।
এ বিষয়ে রংপুর সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের উপপরিচালক ডা. মো. নাজমুল হুদা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের মধ্যে মূল খামার হচ্ছে এটি। কারণ বিভাগের ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর জেলায় সরকারি খামার থাকলেও সেখানে বাচ্চা উৎপাদন হয় না। এখানকার উৎপাদিত বাচ্চা ওই খামারগুলোয় নিয়ে খামারিদের সরবরাহ করা হয়। এখানকার উৎপাদিত মুরগির বাচ্চার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে খামারিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা যেমন—বিজিবি, ক্যান্টনমেন্ট এবং পুলিশ বাহিনীও খামার থেকে মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ করছে।’ চাহিদা বাড়লেও কেন মুরগির বাচ্চা উৎপাদন বাড়ছে না—জানতে চাইলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
নগরীর খামার এলাকায় ১০ একর জমির ওপর ১৯৫৭ সালে স্থাপন করা হয় হাঁস ও মুরগির খামার। যার বর্তমান নাম রংপুর সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার। প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন থাকলেও ১৯৮৬-৮৭ সাল থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণায়লের অধীনে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশীয় মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করাসহ গ্রামীণ মুরগি পালন অব্যাহত থাকে এজন্য কাজ করছে খামারটি। খামারে ছয় মাস বয়স থেকে মুরগি ডিম দেয়া শুরু করে। একেকটি মুরগি থেকে অধিক সময় পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করা হলেও পাঁচ-ছয় মাস হচ্ছে পিক টাইম।
সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার সূত্রে জানা গেছে, সারা বছর চালু থাকে খামারটি। প্রতি মাসে পাঁচ-ছয়দিন একদিনের বাচ্চা প্রতি পিস ১৫ টাকা দরে খামারিদের কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ করা হয়। তবে শীতকালে তিন মাস প্রতি পিস বাচ্চা ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়। এখানে তিন ধরনের মুরগির বাচ্চা (সোনালি, ফাওমি লেয়ার এবং আরআইআর জাতের) উৎপাদন করা হয়। খামারে ১৬ হাজার বাচ্চা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও প্রতি সপ্তাহে তিন-চার হাজার বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ জনের মতো খামারি মুরগির বাচ্চার জন্য আসেন এখানে।
পীরগাছার খামারি মো. হামিদুল বলেন, ‘খামারে মুরগির বাচ্চা পেতে অনেক আগে সিরিয়াল দিয়ে রাখতে হয়। তবে আমি ঝামেলা এড়াতে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে এক মাস আগে ২০০ বাচ্চা কিনেছি। একদিনের প্রতিটি বাচ্চার জন্য ২৬ টাকা করে দিতে হয়েছে।’ তবে তিনি স্বীকার করেন মুরগির বাচ্চাগুলোর তেমন রোগবালাই নেই বললে চলে। শুধু নিয়মিত ভ্যাকসিন দিতে হয়। বর্তমানে তিনি প্রতি পিস মুরগি বিক্রি করছেন ১০০-১১০ টাকা। এক মাসে ২০০ মুরগিকে খাওয়াতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। অবশ্য মুরগির খাবারের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করেন মো. হামিদুল।