লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুনের ঘটনায় প্রাথমিক অনুসন্ধানে মব বা দুর্বৃত্তের হামলার প্রমাণ পায়নি জেলা পুলিশ। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এমনটাই জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা বেলাল চৌধুরীর বসতঘরের লাগা আগুনে তার ৭ বছর বয়সের শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার সানজু মারা যায়। দগ্ধ হয় বেলালসহ তার আরো দুই মেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতি (১৭) ও সামিয়া আক্তার বিথী (১৪)। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া বেলালকে ভর্তি করা হয়েছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা বেলাল চৌধুরী চরমনসা এলাকায় নিজ ঘরে রাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিশু আয়েশা দগ্ধ হয়ে মারা যায়। একই সঙ্গে দগ্ধ হন বেলাল হোসেন ও তার দুই কন্যা। পরে স্থানীয়রা দগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিথী আক্তার ও স্মৃতি আক্তারকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তাদের অবস্থায় আশঙ্কাজনক। দুইজনের শরীরের বেশিরভাগ পুড়ে গেছে।
বেলালের মা হাজেরা বেগম বলেন, আমি রাতে শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে জানালা দিয়ে দেখি আমার ছেলের টিনশেড ঘরে আগুন জ্বলছে। আমি দ্রুত বেরিয়ে আসি। ঘরের দুই দরজায় তালা ছিল, তাই ঢুকতে পারিনি। আমার ছেলে দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে। তার স্ত্রী নাজমা দুই হাতে করে চার মাস বয়সী আবির হোসেন ও ছয় বছর বয়সী হাবিবকে নিয়ে বেরিয়ে আসে। তিনি আরো জানান, ঘরের একটি কক্ষে আমার নাতনি সালমা, সামিয়া ও সানজু ঘুমিয়ে ছিল। তাদের মধ্যে দুজনকে দগ্ধ অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ছোট মেয়ে সানজু ঘরের মধ্যেই পুড়ে মারা গেছে।
তিনি দাবি করেন, দুর্বৃত্তরা টিনশেড ঘরের দুটি দরজায় তালা দিয়ে পেট্রোলের সাহায্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে ঘটনাটি কারা করেছে বা কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বের বিষয় তিনি জানাতে পারেননি।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে ঘটনার স্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় নিহত এক শিশু ও অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।