বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তিতে উদাসীন জাবি

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, আগে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারতেন। বর্তমানে সেই খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের ঘাটতি রয়েছে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমরা এখনো করতে পারিনি। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে হলে সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানোর পাশাপাশি স্কলারশিপের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে

বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তিতে কার্যকর উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক প্রচারণা ও পৃথক ভর্তি-তথ্যব্যবস্থার ঘাটতির মধ্যেই গত আট শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ভর্তি হয়েছেন তিন বিদেশী শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তিতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও পরিকল্পনার ঘাটতি এর অন্যতম কারণ।

প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী, আবাসিক ক্যাম্পাস এবং শিক্ষা ও গবেষণায় দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে জাবির। তবে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির চিত্র ভিন্ন। শিক্ষা শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন তিনজন।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নেপালের মো. আবিদ হোসাইন এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতের অ্যানি লস্কর ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হন। অ্যানি লস্করের পরিবার বর্তমানে টাঙ্গাইলে বসবাস করছে। এরপর পরবর্তী দুই শিক্ষাবর্ষে কোনো বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে আইন ও বিচার বিভাগে ইশিতা সাহা নামে নেপালের একজন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। পরবর্তী তিন শিক্ষাবর্ষে আর কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদেশী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে জাবির দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে পৃথক ভর্তি ও তথ্যব্যবস্থার ঘাটতি, ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্যের অপ্রতুলতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচারণার অভাব, ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদানের সীমাবদ্ধতা, আবাসিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং একাডেমিক সেশনজট। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা থাকলেও তা বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার মতো কার্যকর আন্তর্জাতিকীকরণ পরিকল্পনা দৃশ্যমান নয় বলেও জানান কয়েক শিক্ষক।

পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে আমাদের এখনো আন্তর্জাতিক মানের প্রয়োজনীয় প্রটোকল ও নীতিমালা গড়ে ওঠেনি। বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য আমাদের প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়াটিও পুরোপুরি উপযোগী নয়। অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা, টিউশন ফি, ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কৌশলগত পরিকল্পনা থাকা দরকার।

তিনি বলেন, স্নাতক-স্নাতকোত্তরের পাশাপাশি পিএইচডি ও এমফিল পর্যায়েও বিদেশী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নগণ্য। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো তুলে ধরতে হবে। এসব বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসন উদ্যোগ নেয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে বিদেশী শিক্ষার্থী আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম বলেন, আগে তুলনামূলক কম খরচে বিদেশী শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারতেন। বর্তমানে সেই খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের ঘাটতি রয়েছে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আমরা এখনো করতে পারিনি। তাই তাদের আকৃষ্ট করতে হলে সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়ানোর পাশাপাশি স্কলারশিপের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসিক হল নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটিও এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে হবে। এজন্য বিভিন্ন দেশে থাকা আমাদের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমরা এখনো সেভাবে উদ্যোগ নিতে পারিনি। আগামী দিনে এসব বিষয়ে নজর দেয়া হবে ।

আরও