কুষ্টিয়ায় মাদক ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্যের বিরোধে জোড়া খুন

নিহতরা হলেন— দেবীনগর গ্রামের ফারুক হোসেন এবং খানপুর গ্রামের আব্দুল শেখ। গুরুতর আহত মুল্লুক মণ্ডল নামের একজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের দেবীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— দেবীনগর গ্রামের ফারুক হোসেন এবং খানপুর গ্রামের আব্দুল শেখ। গুরুতর আহত মুল্লুক মণ্ডল নামের একজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, এলাকার সামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে দেবীনগর, হিজলাবট, খানপুর ও ওসমানপুর এলাকার ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেবীনগর গ্রামের ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার খবর পেয়ে ছালিম হোসেন পালিয়ে যান।

সে সময় বাড়িতে ছিলেন ফারুক হোসেন, আব্দুল শেখ ও মুল্লুক মণ্ডল। ছালিমকে না পেয়ে হামলাকারীরা তাদের ওপর চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই ফারুক হোসেন ও আব্দুল শেখ নিহত হন। আর গুরুতর আহত হন মুল্লুক মণ্ডল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত ফারুক হোসেন ও ছালিম হোসেন এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। ফারুকের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর তিনি গত বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় সামিরুলের অনুসারী হিসেবে ছালিম ও ফারুক মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি মাদকের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এলাকার বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সামিরুল দীর্ঘদিন ধরে ওসমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওহিদুল ইসলাম ডাবুলের ছত্রছায়ায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যায়। খবর পেয়ে খোকসা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জোড়া হত্যার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক ব্যবসার অর্থ ভাগাভাগি এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকালে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে রাত ১টার দিকে সামিরুলের অনুসারীরা ছালিম হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত হন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আরও