রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পানি নেই ২৯ দিন, চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরছে রোগীরা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টানা ২৯ দিন ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে রোগী ও তাদের স্বজনরা।

গভীর নলকূপের ভূগর্ভস্থ সঞ্চালন পাইপে ত্রুটি দেখা দেয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানি সংকটের কারণে হাসপাতালের শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ায় রোগীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ৫৫ বছর আগে হাসপাতালে স্থাপিত গভীর নলকূপে পাম্প বসানো হয়। সেখান থেকেই রোগীদের জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত ১১ মে থেকে গভীর নলকূপের এক হাজার ফুট গভীরে থাকা লোহার পাইপ ও হাউজিংয়ে ত্রুটি দেখা দেয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পুকুর থেকে মোটরের মাধ্যমে পানি তুলে কোনো রকমে টয়লেটের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পুরো হাসপাতাল এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা রোগী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যেকোনো মুহূর্তে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে হামসহ ৮২ জন ভর্তি রয়েছে। শৌচাগারে পানি না থাকায় হাসপাতাল থেকে দূরের খাল থেকে পানি এনে তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাসকারী চিকিৎসক, নার্সসহ নয়টি পরিবার তীব্র পানি সংকটে পড়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, পানি না থাকায় গোসল, শৌচাগার ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীদের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। হাসপাতালে পানি না থাকায় অনেকে চিকিৎসা শেষ না করেই বাড়ি ফিরে যেতে চাচ্ছেন।

হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) বিশেষ প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ঢাকার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকৌশলীকে লিখিত নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, যেন তার বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) বাজেট থেকে নলকূপটি স্থাপন করা হয়। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শেষ দিকে হওয়ায় ওই প্রকৌশলীর তহবিলে কোনো অর্থ অবশিষ্ট ছিল না। ফলে নির্দেশ পেয়েও তিনি বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে পারেননি। চলতি অর্থবছরে নতুন করে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় পানি সংকটের দ্রুত সমাধান দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল খায়ের রাসেল বলেন, ‘পানির এ তীব্র অভাব যদি আরো কিছুদিন স্থায়ী হয়, তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।’

ঝালকাঠি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. বাহারুল ইসলাম বলেন, ‘পানি সংকট সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও