সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে স্থানীয়দের চলাচলে কোনো কাজে আসছে না সেতুটি। স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চলে নৌযান চলাচলের সুবিধা বজায় রাখতে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে সরকারি সম্পদ হওয়ায় সেতুটি ভাঙতেও নানা জটিলতা রয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য অরনজিত দাস জানান, সেতুটির সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। কারণ আশপাশে কোনো রাস্তা নেই। ফলে এটি গ্রামের মানুষের কোনো কাজে আসছে না। তবে সেতুর দুই পাশে সিঁড়ি নির্মাণ করা হলে মানুষ হেঁটে খাল পার হতে পারত। যদিও এত উঁচু সেতুতে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে সেতুটির কারণে নৌকা চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
বামৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুখ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সেতুটি এখন ভেঙে ফেলা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এখানে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে বর্ষাকালে নৌকা চলাচলে সমস্যা হবে। তাই গ্রামের মানুষও সেখানে রাস্তা নির্মাণের পক্ষে নয়। আমরা কয়েকবার স্থানটি পরিদর্শন করেছি। বাস্তবতা বিবেচনায় সেতুটি ভাঙা ছাড়া কোনো সমাধান দেখছি না।’
লাখাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘সেতুটি ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া এটি অপসারণ করা যাবে না। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানুষের চলাচলের উপযোগী করে সেখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেতুটিতে চলাচলের জন্য যে উচ্চতার সংযোগ সড়ক প্রয়োজন, তা নির্মাণের সুযোগ নেই। সেখানে কোনো রাস্তা নেই। রাস্তা থাকলে হয়তো বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। প্রায় ১৬ বছর আগে কী বিবেচনায় রাস্তা ছাড়া হাওরের মধ্যে এ ধরনের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল, তা বোধগম্য নয়। বাস্তবে এটি মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।’