আরবি বিভাগ

উন্নয়ন ফি কমানোর দাবি ওঠায় ঢাবিতে পরীক্ষা স্থগিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আরবি বিভাগ অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি আরোপ করেছে বলে অভিযোগ মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের। ফলে কলা অনুষদের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত কয়েক মাস ধরে যৌক্তিক ফি ধার্যের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। যদিও ফি কমানোর দাবি করায় প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দু’দফা স্থগিত করেছে বিভাগটির একাডেমিক কমিটি। এতে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল কাদিরের দাবি, শিক্ষার্থীরা ভর্তি না হওয়ায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আরবি বিভাগ অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি আরোপ করেছে বলে অভিযোগ মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের। ফলে কলা অনুষদের অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত কয়েক মাস ধরে যৌক্তিক ফি ধার্যের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। ফি কমানোর দাবি ওঠায় প্রথম সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দু’দফা স্থগিত করেছে বিভাগটির একাডেমিক কমিটি। এতে সেশনজটের শঙ্কায় রয়েছে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী। তবে বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল কাদিরের দাবি, শিক্ষার্থীরা ভর্তি না হওয়ায় পরীক্ষা সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানান, মাস্টার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা গত ১৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে সময় বিভাগের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রতি শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকা করে ফি জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ফি কমানোর দাবি জানিয়ে ফি জমা দেয়া থেকে বিরত থাকে। এক পর্যায়ে পরীক্ষা পিছিয়ে ৫ জুন নির্ধারণ করা হয় এবং পরীক্ষার আগেই ফি পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে গত ১৭ মে ফি কমানোর দাবিতে বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ ওঠে, আবেদন জমা দিতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল কাদির।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি বলেন, উন্নয়ন ফি জমা না দিলে পরীক্ষা হবে না। এ সময় ফি কমানোর নামে বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন তিনি।

ওই ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী বিষয়টি বণিক বার্তাকে নিশ্চিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, একমাত্র আরবি বিভাগেই অতিরিক্ত উন্নয়ন ফি ধার্য করা হয়েছে। 

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক শিক্ষার্থী বণিক বার্তাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে উন্নয়ন ফির পরিমাণ সাধারণত ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকার বেশি নয়। এমনকি কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভাগগুলোতে উন্নয়ন ফি ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এর আগে বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে নিয়মবহিভূর্তভাবে বিভাগের উন্নয়ন ফির ২৬ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। পরে অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হলে ড. ইউসুফ ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দেন।

এদিকে উন্নয়ন ফি বাড়ানোকে দোষের মনে করছেন না চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাদির। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, এখন সব কিছুর ফি বেড়েছে, আমরা ফি বাড়ালে দোষ কোথায়!

বিভাগের আর্থিক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের তো কেউ টাকা দেয় না; সরকার টাকা দেয় না, বিশ্ববিদ্যালয় টাকা দেয় না তাহলে আমরা কীভাবে চলব? অন্যদিকে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন করতে হয়, এসি চালাতে হয়। এ সবে টাকা লেগে যায়।

অন্যান্য বিভাগের উন্নয়ন ফি’র চেয়ে প্রায় তিনগুণ ফি ধার্য করেছে বিভাগটি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো অন্য ডিপার্টমেন্ট দেখব না তো, ওটা দেখার রাইট নেই আমার। এটা আমার ডিপার্টমেন্টের বিষয়। তারা (শিক্ষার্থীরা) যদি উন্নয়ন ফি দেয় তবেই পরীক্ষা নেব, না হলে নেব না।

এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক জানি না। যদি এমনটিই হয়ে থাকে, তবে তা উচিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

আরও