সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারে ২০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বন্যায় মৌলভীবাজারের আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৭৩টি সড়কের ২০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। হাওরাঞ্চলের কিছু কিছু সড়কে এখনো রয়েছে পানি। সম্পূর্ণভাবে পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ২৮ মে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার চৈত্রঘাটে ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। নদের পানি কমলে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৯ জুন ওই ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে রহিমপুর ইউনিয়ন ও সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। সড়কে পানি ওঠায় জেলা শহরের সঙ্গে কমলগঞ্জ উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। এছাড়া হাকালুকি হাওরে পানি বেড়ে কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। ডুবে যায় গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি। বন্যার পানির স্রোতে পাকা সড়কের ইটের খোয়া বের হয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। অনেক স্থানে ইট ও খোয়া ক্ষয়ে কয়েক ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে সড়ক।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার ৭৩টি পাকা সড়কের ২০০ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে আটটি সেতু ও কালভার্ট। এসব সড়ক ও সেতু মেরামত এবং পুনর্নির্মাণে ১৪৭ কোটি টাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলায়। ১৪টি সড়কের ৪৯ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরই রয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার ১১টি পাকা সড়কের ৪৭ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কুলাউড়ার ১২টি সড়কের ৩০ কিলোমিটার, রাজনগর উপজেলার সাতটি সড়কের ছয় কিলোমিটার, শ্রীমঙ্গলে ১১টি সড়কের ৩০ কিলোমিটার, বড়লেখায় ছয়টি সড়কের ১৮ কিলোমিটার ও জুড়ী উপজেলার ১২টি পাকা সড়কের ১৯ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশীমইলে ছাতির মিয়া জানান, তাদের এলাকায় চলাচলের সড়ক প্রায় এক মাস পানিতে তলিয়ে ছিল। পানির মধ্য দিয়ে তখন চলাচল করতে হয়েছে। এখন পানি কমে গেলেও ভোগান্তি কমেনি। কেউ অসুস্থ হলে ভাঙা সড়কে আনানেয়া মুশকিল হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে ৫০ শতাংশ। কোনো জায়গায় প্রায় দ্বিগুণ। অনেক চালক এসব সড়কে গাড়ি চালাতেও চান না।’

এ ব্যাপারে এলজিইডি মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ আব্দুল্লা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রায় প্রতিদিন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তথ্য আপডেট হচ্ছে। এখনো অনেক সড়কে পানি রয়েছে। এজন্য ক্ষতির প্রকৃত তথ্য জানতে আরো সময় লাগবে।’

আরও