ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা প্রকল্প

যশোরে শিক্ষক-কর্মকর্তার সাত মাস বেতন বন্ধ

দেশে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

দেশে শতভাগ শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-) নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্পের অধীনে যশোরে ছয় শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা চাকরি করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় না হওয়ায় সাত মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে তাদের। পাশাপাশি জেলার ৫৬৬টি শিখন কেন্দ্রে চালু রাখতেও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দিশা সমাজ কল্যাণ সংস্থাকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য সংশ্লিষ্টরা দ্রুত অর্থ ছাড় করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পিইডিপি- প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যালয়গামী শিশুর একীভূত সমতাভিত্তিক মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। যশোরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে দিশা সমাজকল্যাণ সংস্থা।

সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, যশোরের আটটি উপজেলা এবং পৌরসভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২১ সালে জেলার ৫৬৬টি শিখন কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৯৮৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে হাজার ৮৯৪ শিক্ষার্থীকে মূল ধারায় সংযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ১৩ হাজার ৯১ শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে। প্রকল্পটিতে ৫৬৬ জন শিক্ষক, ৪২ সুপারভাইজার, ১০ উপজেলা ম্যানেজার ১৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। দিশা সমাজকল্যাণ সংস্থার বাস্তবায়নকৃত আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন কর্মসূচির শিক্ষকদের বেতন, শিখন কেন্দ্রের জন্য ঘর ভাড়া, সুপারভাইজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বরাদ্দ উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো দেয়।

যশোর জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক হিরামন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুযায়ী যশোর জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। সব উপজেলায় আইভিএ (স্বতন্ত্র যাচাই কমিটি) রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্র চলমান। তবে ডিসেম্বরের পর আর কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। প্রকল্পের সফল সমাপ্তি সব শিক্ষার্থীকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান রাখা প্রয়োজন।

আরও