ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় রাজধানীতে ওয়াসার ৩০০-এর বেশি বুথে পানি সরবরাহ পাঁচদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ওইসব এলাকায় খাওয়ার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া কারফিউর কারণে দোকানগুলোয় পণ্য সরবরাহ না থাকায় বোতলজাত পানি কিনতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াসার পানি ফুটিয়ে খাচ্ছে অনেকে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও এর আশপাশ এলাকা ঘুরে গতকাল এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসংলগ্ন মানিকনগর এলাকায় ওয়াসার একটি বুথে গিয়ে দেখা যায়, বুথটি বন্ধ এবং সেখানে হাতে লেখা একটি নোটিস টাঙানো রয়েছে। যেখানে লেখা রয়েছে ‘ইন্টারনেট না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ।’ এমন পরিস্থিতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থাকা ওয়াসার সব বুথে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ কোনো ব্যবস্থায় এসব এলাকায় পানি সরবরাহ করা হবে কিনা সে বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মানিকনগর এলাকার কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আল-আমিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার সকাল থেকেই বাসায় পানি নেই। তারও আগ থেকে বুথে পানি দেয়া বন্ধ রয়েছে। ওয়াসার লাইনের যে পানি তা খাওয়ার উপযোগী নয়। নিরুপায় হয়ে লাইনের পানি ফুটিয়ে খাচ্ছি। আমার বাসায় লাইনের গ্যাস না থাকায় সিলিন্ডার গ্যাস দিয়েই পানি ফোটানো হচ্ছে। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে নতুন বিপদ শুরু হবে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সেটি তো বলতে পারছি না।’
ঢাকা ওয়াসার উপপ্রধান জনতথ্য কর্মকর্তা এএম মোস্তফা তারেক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এ পানি খাওয়ার যোগ্য। তাছাড়া ঢাকা শহরে ৩০০-এর বেশি বুথ রয়েছে। এসব বুথের পাশে একটি করে ট্যাব দেয়া আছে, সেখান থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পানি নেয়ার সুযোগ রয়েছে।’
তবে সরজমিনে দেখা যায়, বন্ধ বুথের পাশে ওয়াসার বিশেষ প্রক্রিয়ায় পানি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আরিয়ান ইসলাম নাঈম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাসায় পানি নেই বৃহস্পতিবার থেকেই। ওইদিন বুথে এসে দেখি ইন্টারনেট না থাকায় পানি দিচ্ছে না। আবার ওয়াসার পানি ফোটাতে গিয়ে সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাবে। খুব বিপদে আছি। কবে নাগাদ সবকিছু স্বাভাবিক হবে জানি না। আমাদের এলাকার দোকানগুলো পণ্য আনতে পারছে না গাড়ি বন্ধ থাকায়। এখন দোকানেও পানির দাম বেশি। অনেক দোকানে পানি শেষ হয়ে গেছে। কেনার সুযোগ পাচ্ছি না।’