জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা আলীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একটি মামলার আসামি হিসেবে আদালতের সমনে হাজির না হওয়ায় গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূর তাদের গ্রেফতারের এ আদেশ দেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুকুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আসামিপক্ষ এ মামলায় কোনো আইনজীবীকে ওকালতনামা না দেয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিপক্ষে কথা বলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি গাজী শাহ আলম। তিনি আদালতকে বলেন, অভিযুক্ত নূর আলী দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। দেশে এসে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আশা করছি সমাধান হয়ে যাবে।
প্রত্যুত্তরে আদালত বলেছেন, মীমাংসা হলেও আদালতের নির্দেশ পালন করতে হবে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ঢাকার পরীবাগে নূর আলীর বোরাক রিয়েল এস্টেটের বানানো ইউনিক হাইটসের একটি ফ্ল্যাট কেনেন জালাল আহমেদ স্পিনিং মিল ও শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ। ফ্ল্যাট ক্রয় বাবদ ২ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা গ্রহণ করেন আসামিরা। ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রেশন করে না দেয়ায় ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাতজনকে আসামি করে মামলাটি করেন বাদীপক্ষ।
মামলার পর আদালত পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। সম্প্রতি এ নিয়ে তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর নূর আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমনে হাজির না হওয়ায় গতকাল এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আগামী বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিন ধার্য করা হয়েছে।