বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং (উৎপাদন) খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। ২০১৭-২০২২ সময়ে এ খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল ঋণাত্মক (-২.২ শতাংশ)। যেটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ভালো খবর নয়। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে ‘শিল্পায়ন ও রপ্তানিভিত্তিক পোশাকশিল্প’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব বলেন বক্তারা। বইটির লেখক বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র ফেলো ও প্রাক্তন গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম রহমান।
অনুষ্ঠানে ড. রুশিদান ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি খাত পোশাক শিল্প। কিন্তু এ শিল্পে ধারাবাহিকভাবে নারী কর্মজীবীর সংখ্যা কমছে। বিবাহিত নারী কর্মীর সংখ্যা ব্যাপক হারে কমেছে। এটি পোশাকশিল্পের জন্য ভালো খবর নয়।
তিনি আরো বলেন, পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারও কমছে। ১৯৯৯ থেকে ২০০১-০২ সময়ে শিল্পে কর্মনিয়োজন বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যেটি ২০০১-০২ থেকে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে। ২০০৫-০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত বার্ষিক কর্মনিয়োজন বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর ২০১১ থেকে ২০১৮ সময়ে এ হার কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ২৩ শতাংশ।
ড. রুশিদান ইসলাম বলেন, শ্রমশক্তি জরিপের তথ্যমতে বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ২০১৭-২০২২ পর্যন্ত সময়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ঋণাত্মক (-২.২ শতাংশ)। অথচ ২০১০-২০১৭ সময়ে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। কর্মসংস্থান কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কভিড একটি বড় ধাক্কা হয়ে এসেছিল। সে সময় অনেকেই চাকরি হারান, অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। আবার এ খাতে প্রকৃত মজুরি বাড়েনি, বৈষম্য বেড়েছে। এটিও একটি কারণ।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন বলেন, আগামী বছর আমরা এলডিসি গ্রাজুয়েশনে যাচ্ছি। গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা শঙ্কায় আছেন যে তারা বৈদেশিক বিভিন্ন সুবিধা কম পাবেন সেজন্য। তারা সরকারের কাছে প্রণোদনা চান; সরকারের পক্ষে প্রণোদনা দেয়া সম্ভব নয়। এলডিসি্ গ্রাজুয়েশনেও যেন শিল্পটিতে কোনো ধাক্কা না আসে সেজন্য সরকার তিনটি কমিটি গঠন করেছে। এর একটি কমিটি কাজ করবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নেগোসিয়েশনের জন্য। এরই মধ্যে জাপানের সঙ্গে আলোচনা করেছে কমিটিটি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের এলডিসি গ্রাজুয়েশনে যাওয়ার কথা ছিল, এটি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ীরা জানতেন। তাহলে তারা প্রস্তুতি নিলেন না কেন? আমাদের দেশ একটি শিল্পের ওপর অধিক নির্ভরশীল। অন্য শিল্প কেন দাঁড়াতে পারছে না? গার্মেন্টস শিল্পের বিকল্প এতদিনেও তৈরি করতে না পারাটা হতাশাজনক। বিকল্প শিল্প গড়ে তুলতে হবে।
বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। আলোচক ছিলেন বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো সিবান শাহানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রুবাইয়া মোরশেদ।