আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলায়

দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলা নিয়ে গঠিত যশোর কৃষি অঞ্চল। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ।

দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলা নিয়ে গঠিত যশোর কৃষি অঞ্চল। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ। শুরুতে টানা বৃষ্টির কারণে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও এসব অঞ্চলে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলনও ভালো হবে। ধানের ভালো দাম পাওয়ায় আমন চাষে কৃষকের আগ্রহের কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, এ বছর সর্বোচ্চ রোপা আমন চাষ হয়েছে যশোর জেলায়। সেখানে ১ লাখ ৪০ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এরপর রয়েছে ঝিনাইদহ। সেখানে চাষ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮৮ হেক্টর। এছাড়া মাগুরায় ৬২ হাজার ২১৬, কুষ্টিয়ায় ৮৮ হাজার ৯২০, চুয়াডাঙ্গায় ৩৬ হাজার ৭১০ এবং মেহেরপুরে ২৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষক প্রায় ১০ দিন আগে আগাম জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ২৫৮ হেক্টরেরও বেশি জমি আমন চাষের আওতায় এসেছে। ১৬ লাখ টন ধান উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক। এবার এ অঞ্চলে প্রতি হেক্টরে গড়ে ৩ দশমিক ৪৭১ টন ধান উৎপাদন হবে, যা গত মৌসুমে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ টন। এ বছর কীটপতঙ্গের আক্রমণ ও রোগব্যাধি কম হওয়ায় কৃষকের ব্যয়ও সাশ্রয় হয়েছে। চলতি মৌসুমে কৃষি অঞ্চলে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ২৫৮ হেক্টর জমি চাষের আওতায় এসেছে। অপ্রত্যাশিত বৃষ্টির কারণে ২৭১ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গোয়াল গ্রামের কৃষক এইচএম আলী হাসান বলেন, ‘এবারের আমন ধানের দানা পাকা ও ঘন হয়েছে। ধানের শীষে চিটাও কম হয়েছে। এসব কারণে ধানের দামও ভালো পাওয়া যাবে।’

মেহেরপুরের কৃষক আলী নূর হোসেন জানান, কোনো বাধা ছাড়াই এবার প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২১ মণ ধান হয়েছে। এটা একটা চমৎকার ব্যাপার। ধানের ছড়াগুলো পুষ্ট, ধানও গোটা গোটা। তাছাড়া ধানে তেমন কীটপতঙ্গের আক্রমণ বা রোগ হয়নি, যা আংশিকভাবে তাদের উৎপাদন খরচ কমিয়েছে।

এদিকে এবার কৃষক সন্তোষজনক লাভের আশা করছেন খড় বিক্রি থেকে। যাকে বলা হয় বিছালি। খামারিরা আগাম দাম দিচ্ছেন খড়ের। প্রতি বিঘা থেকে ধানের খড় বিক্রি করে একজন কৃষক প্রায় ৫ হাজার টাকা পেতে পারেন, যা ধানের দামের প্রায় ২০-২৫ শতাংশ।

যশোর কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক দীপক কুমার রায় জানান, যশোর কৃষি অঞ্চলের ছয়টি জেলার কৃষক রোপা আমন ধানে ভালো লাভ পাবেন। পোকার আক্রমণ না থাকায় ভালো ফলনের জন্য অধিক বৃষ্টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন তিনি। মাঠ পর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।

আরও