সেতুর দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। চারদিকে ফসলি জমি। সেতুর দুই পাশ জমি থেকে উঁচু হওয়ায় এবং সংযোগ সড়ক না থাকায় উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও এটি কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ চাষীদের।
সরজমিনে দেখা যায়, সোনামতি খালের ওপর সেতুটির পূর্ব পাশে পায়ে চলা পথ থাকলেও পশ্চিম দিকে শুধুই আবাদি জমি।
জমিতে কর্মরত কৃষক লাল মিয়া বলেন, ‘রাস্তা না থাকায় সেতুটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। এছাড়া সেতুটির দুই মুখ জমি থেকে উঁচু হওয়ায় ফসল পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’
কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, ‘সেতুটির আশপাশে প্রায় ১৫০ একর জমি আছে। হিন্দুদের জন্য শ্মশানও আছে এ এলাকায়। অধিকাংশ জমি খালের পাশাপাশি সোনামতি নদী ঘিরে রেখেছে। তাই ফসল আনা-নেয়ার জন্য একমাত্র সহজ অবলম্বন এ সেতু।’
এলাকাবাসী জানান, সেতুটির উত্তর দিকে মূল সড়ক থেকে চারদিকে ফসলি জমি। এসব জমির পাশ দিয়ে হেঁটে চলাচলের জন্য একটি ছোট রাস্তা থাকলেও সেতুর দুই পাশে কোনো রাস্তা করা হয়নি। দক্ষিণ পাশেও ধানখেত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষক বলেন, ‘কয়েকজন জমির মালিক রাস্তার জন্য জমি না ছাড়ায় সেতু পর্যন্ত রাস্তাটি বড় করা সম্ভব হচ্ছে না।’
জানা গেছে, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধীকরণ প্রকল্পের আওতায় পীরগঞ্জ উপজেলায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। মাঠ থেকে কৃষকদের ফসল আনার সুবিধার্থে সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সোনামতি খালের ওপর ৮ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে বিএডিসি।
বিএডিসি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, ‘খালের ওপর নির্মিত সেতুটি মূলত ফুটওভারব্রিজ। এর ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করবে না। খাল পার হওয়ার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল নিয়ে হেঁটে সেতু দিয়ে চলাচল করবেন। তাই সংযোগ সড়ক নির্মাণের ব্যয় ধরা থাকে না। তবে সবাই যাতে অনায়াসে চলাচল করতে পারে, এজন্য সেতুর দুই প্রান্ত মাটি দিয়ে উঁচু করা হয়। এখানেও উঁচু করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে মাটি ধসে গেছে সম্ভবত। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিএডিসির প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’