এমন কিছু শহর আছে, যেখানে গেলে মনেই হবে না যে ময়লা বলতে কিছু আছে। সেখানে না আছে ধুলো, ধোঁয়া, নর্দমার উপচে পড়া পানি বা যানজট। একটি দেশ কতটা পরিচ্ছন্ন, তা নির্ভর করে দেশটির বিশুদ্ধ বায়ু ও পানি, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সঠিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর।
২০২৪ সালের এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই) বা পরিবেশ সুরক্ষা সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ এস্তোনিয়া। এ সূচকে শীর্ষ পাঁচ পরিচ্ছন্ন দেশ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
এস্তোনিয়া
বিশুদ্ধ বাতাস, বাস্তুতন্ত্র রক্ষা এবং জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে অসাধারণ সাফল্যের কারণে পরিচ্ছন্ন দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষ রয়েছে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল বন ব্যবস্থাপনা এবং কার্বনশূন্য গণপরিবহনের জন্য এস্তোনিয়া সুপরিচিত। পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে দেশটির স্কোর ৭৫ দশমিক ৩।
লুক্সেমবার্গ
লুক্সেমবার্গ আয়তনে ছোট হলেও পরিবেশ সুরক্ষায় দেশটির অর্জন অনেক বড়। বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার জন্য লুক্সেমবার্গ বিখ্যাত। পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে পানির গুণগত মানের জন্য দেশটি ৯০ দশমিক ৮ স্কোর পেয়েছে। আর স্যানিটেশনের জন্য পেয়েছে ৯৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট।
লুক্সেমবার্গের অর্ধেকের বেশি ভূমি জলবায়ু সুরক্ষার অধীন। জীববৈচিত্র্যে দেশটির স্কোর ৮৪ দশমিক ৮। এর মূল কারণ জলবায়ুসংক্রান্ত কঠোর নীতিমালা। পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে সামগ্রিকভাবে দেশটির স্কোর ৭৫।
জার্মানি
দেশজুড়ে পানির বর্জ্য পরিশোধন করে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করেছে জার্মানি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশটির অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং টেকসই শিল্পায়নে দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছে জার্মানি।
জার্মানি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, দায়িত্বশীল বন ব্যবস্থাপনা ও কার্বন হ্রাস নীতি বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে জার্মানির স্কোর ৭৪ দশমিক ৬।
ফিনল্যান্ড
পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে ফিনল্যান্ডের স্কোর ৭৩ দশমিক ৭। বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ফিনল্যান্ড বিখ্যাত। দেশটি তাদের বনাঞ্চল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়।পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে স্যানিটেশন, নিরাপদ খাবার পানি ও ভারী ধাতুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ফিনল্যান্ড সর্বাধিক নম্বর পেয়েছে।
যুক্তরাজ্য
পরিবেশ সুরক্ষা সূচকে ৭২ দশমিক ২ স্কোর নিয়ে পরিচ্ছন্ন দেশের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটি সামুদ্রিক অঞ্চল সংরক্ষণে অনন্য। এখানকার ৩০ শতাংশের বেশি সামুদ্রিক অঞ্চল সুরক্ষিত।
আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত কঠোর নীতিমালার কারণে যুক্তরাজ্য গত ১০ বছরে এক-তৃতীয়াংশ কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হয়েছে।