ঢাকার ১ লাখ হকার পুনর্বাসনে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও ডিএনসিসি

সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার গুলশানে ডিএনসিসি দপ্তরে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সভায় এ বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ঢাকা হাট’ স্থাপন এবং ঢাকার ১ লাখ হকারকে পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণে একসঙ্গে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এছাড়া যৌথ উদ্যোগে ঢাকার আগারগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী হলিডে মার্কেট চালু, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে বিজনেস ইনকিউবেশন সেন্টার পরিচালনার বিষয়েও একমত হয় দুই সংস্থা।

সোমবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার গুলশানে ডিএনসিসি দপ্তরে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সভায় এ বিষয়ে শিগগিরই উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার ও ফারজানা খান, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো. আব্দুস সালাম সরদার এবং উপমহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন। সভায় এসএমই উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে ভারতের ‘দিল্লী হাট’-এর আদলে ডিএনসিসি ও এসএমই ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার সুবিধাজনক স্থানে ‘ঢাকা হাট’ স্থাপন, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব দপ্তর ও স্থাপনায় এসএমই উদ্যোক্তাদের তৈরি করা পণ্যের ডিসপ্লে ও বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, উদ্যোক্তাদের ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজীকরণে উদ্যোগ গ্রহণ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতি অনুরোধ জানায় এসএমই ফাউন্ডেশন। এছাড়া ২০২৪ সালে অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে দেশের প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অর্ধেকই অনানুষ্ঠানিক খাতের উল্লেখ করে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব উদ্যোক্তার ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ইতিবাচক ভূমিকার আহ্বান জানানো হয় সভায়।

এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানান, ডিএনসিসির আওতাধীন উদ্যোক্তারা এখন অনলাইনে ফি দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স নিবন্ধন ও নবায়ন করতে পারছেন। সনদও পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশে ৭৮ লাখের বেশি কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা মোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশের বেশি। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এসএমই খাতে। এ খাতে প্রায় আড়াই কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

আরও