১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, কিছু অনিয়ম, দুর্বলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা বলেছি কিছু অনিয়ম ছিল। তবুও মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। কিছু অনিয়ম, দুর্বলতা ও ত্রুটি বিচ্যুতিসহ দেশবাসী উপভোগ করেছে। গত তিনটা নির্বাচন আমাদের যেখানে হতাশ করেছে, সেখানে এ নির্বাচনে আশান্বিত করেছে যে একটা সুন্দর, সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া যায়। এখন আমরা গণনা পর্যবেক্ষণ করব। আশা করব যারা দায়িত্বশীল আছেন, তারা দায়িত্ব পালন করবেন। কোনো সমস্যা হবে না। বিচ্যুতি ঘটবে না। এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য কিনা বলতে পারি না, তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। জনগণের সমর্থন পাব, এটা আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার জাতীয় নির্বাচন আজ একটি জাতীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের মরো করে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আমরা সকাল থেকেই বলেছিলাম— এ নির্বাচন একটি দীর্ঘ প্রত্যাশার ফল, যার জন্য পুরো জাতি বহু বছর ধরে অপেক্ষা করেছে। কারণ ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকার পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল এবং রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিকে তারা ধ্বংস করেছিল।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এ ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, তাদের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল—বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। যার ফলাফলের জন্য আমরা এখন অপেক্ষা করছি। আমরা দেখেছি, দেশের মানুষ গভীর আগ্রহ ও উৎসাহের সঙ্গে এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষ দলে দলে ট্রেন, বাস ও লঞ্চে করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একটি কমিটমেন্ট ছিল। সেটা তারা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে সেটা সাক্ষী দেশবাসী দেবেন। আমরা সকাল থেকে দেখেছি তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছে। মানুষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত ভোটার উপস্থিতির হার জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৬ হাজার কেন্দ্রের তথ্য এবং আনুমানিক ৪৭ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলা হয়েছে। আমাদের জানা মতে, একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়ার কথা রয়েছে। এখন পোস্টাল ব্যালট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদের ব্যালট—এই তিন ধরনের ব্যালট একসঙ্গে গণনা হবে। তিনটা ব্যালেট একসাথে গণনা হবে। আমরা ও দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ফলাফলটা পেতে পারি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দেশে অনন্য সাধারণ নির্বাচন হয়েছে। মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। খুব বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তারপরও অনেকগুলো আসনে সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮, পটুয়াখালী-১সহ কয়েকটি আসনের অনেকগুলো কেন্দ্রে আমাদের প্রার্থীদের এজেন্টদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, হুমকি এবং কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরণের বেশকিছু ঘটনা বিভিন্ন জায়গায় ঘটেছে। এসব বিষয় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছি। তারা ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তারপরও আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সচেতন জনগণ সব ধরনের সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সক্ষম—বাংলাদেশের মানুষ আজ আবারও তা প্রমাণ করেছে। নানা ধরনের গুজব, মিডিয়া ট্রায়াল ও উদ্বেগের মধ্যেও জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে একটি দায়িত্বশীল জাতির পরিচয় দিয়েছে।