জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা এক মামলায় ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা আলীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর জামিন আবেদনের শুনানি শেষে গতকাল এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার মামলার আসামি হিসেবে আদালতের সমনে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
এ মামলার বাদী জালাল আহমেদ স্পিনিং মিল ও শাহ ফতেউল্লাহ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সেলিম আহমেদ ২০১৫ সালে ঢাকার পরীবাগে নূর আলীর বোরাক রিয়েল এস্টেটের বানানো ইউনিক হাইটসের একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। ওই সময় তিনি ফ্ল্যাট ক্রয় বাবদ ২ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন। টাকা পরিশোধের পরও রেজিস্ট্রেশন করে না দেয়ায় গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছিলেন সেলিম আহমেদ।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় পিবিআইকে। পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থাটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নূর আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। সমন অনুযায়ী গত সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ জারি করা হয়। পরে গতকাল আদালতে উপস্থিত হয়ে তারা জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করা হয়।
জামিন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী শাহ আলম বলেন, বাদীর সঙ্গে জাল-জালিয়াতি বা প্রতারণার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি একটি খাস জমি। আসামি এটি বরাদ্দ নিয়ে ভবন তৈরি করেছেন। নিবন্ধন দেয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকায় আসামি হাইকোর্টে একটি রিট করেছেন এবং এটি এখনো চলমান রয়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশ পাওয়ামাত্রই তিনি বাদীকে তার ফ্ল্যাটের নিবন্ধন করে দেবেন। উচ্চ আদালতে চলমান মামলাটি নিষ্পন্ন না হওয়ার কারণে আসামি এখনই ফ্ল্যাটটি নিবন্ধন করে দিতে পারছেন না।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারুকুর রহমান শুনানিতে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নূর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা আলীকে জামিন দেন।