২০২৩-২৪ অর্থবছর

এখনো ব্যয়ের খাতা খুলতে পারেনি ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস চলমান থাকলেও এখনো উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা বরাদ্দের ব্যয় শুরু করতে পারেনি পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও পাঁচটি বিভাগ। আর সব মন্ত্রণালয় মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থ। যদিও গত অর্থবছরের শেষ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থ। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় প্রতি অর্থবছরের শেষ সময়ে, বিশেষ

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস চলমান থাকলেও এখনো উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) থাকা বরাদ্দের ব্যয় শুরু করতে পারেনি পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও পাঁচটি বিভাগ। আর সব মন্ত্রণালয় মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ১ দশমিক ২৭ শতাংশ অর্থ। যদিও গত অর্থবছরের শেষ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ অর্থ। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোয় প্রতি অর্থবছরের শেষ সময়ে, বিশেষ করে জুনে অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি হলেও কমে যায় জুলাইয়ে। গত কয়েক বছর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর এমন চিত্রই দেখা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ বছরের জুলাইয়ে উন্নয়ন বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা। যেখানে চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আর গত অর্থবছরের শুধু জুনে ব্যয় হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। গত ১০ বছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন চিত্রই সামনে এসেছে।

এ বছর এখনো ব্যয় শুরু করেনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ধর্ম মন্ত্রণালয়। আর পাঁচটি বিভাগের মধ্যে রয়েছে আইন ও বিচার বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বছরের শুরুতে অবহেলার কারণে বছর শেষে তড়িঘড়ি করে এডিপি বাস্তবায়নের প্রবণতা থাকে। এতে প্রকল্পের গুণগত মান রক্ষা করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। নির্ধারিত সময়ে কাজ না হওয়ায় অনেক সময় প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়।

এদিকে গত কয়েক বছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। এছাড়া ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ দশমিক ৫২, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ দশমিক ৮৪, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৫৭, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৯৩, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৫৬, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছিল ২ শতাংশ। অর্থাৎ কোনো অর্থবছরেই ২ শতাংশের বেশি কাজ হয়নি।

এদিকে গত কয়েক অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রে দেখা যায়, পুরো অর্থবছরের এক-তৃতীয়াংশ কাজই হয়েছে জুনে। তথ্যানুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুনে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৩ দশমিক ৭৫, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২৩ দশমিক ০২, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৬ দশমিক ৬৯, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ২২, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২৫ দশমিক শূন্য ৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৩১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৯২টি প্রকল্প রয়েছে। এবারের এডিপিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩১ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ২৪ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৬ হাজার ১১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৪ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ১১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা, সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বছরের শুরুতে অর্থ ব্যয়ের ধীরগতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মূখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরই এমনটা চলছে। প্রথম দিকে কাজের ধীরগতি দেখা যায়। কিন্তু বছরের শেষ সময়ে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে কাজের মানে অনেক ছাড় দিতে হয়। এতে সময়ব্যয়ও বাড়ে।’

আরও